Dilip Ghosh
Bengal Liberty, ৬ মে:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা বিতর্ককে কেন্দ্র করে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হলেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা (Dilip Ghosh)। সেই আবহে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের Dilip Ghosh
বুধবার সকালে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা খড়্গপুর সদরের সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক দিলীপ ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা ইস্যুতে তীব্র কটাক্ষ করেন। কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন সাংসদ কটাক্ষের সুরে বলেন, “উনি শাড়ি পরা ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’দিন পর ক্ষমতার নেশা কেটে যাবে।” শুধু এই মন্তব্যেই থেমে থাকেননি তিনি। দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ তাদের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এবং সেই রায়কে অস্বীকার করা গণতান্ত্রিক প্রথার পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত দ্রুত পদত্যাগ করে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম করা। উল্লেখ্য, প্রাতঃভ্রমনের সময় সকালে মিষ্টি হাতে সটান ইকো পার্ক থানায় ঢুকে পড়েন দিলীপ ঘোষ। এদিন উর্দিধারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁদের নিশ্চিন্ত হয়ে কাজ করার বার্তাও দেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।

পদত্যাগে অস্বীকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
গতকাল কালীঘাটে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করছেন না। তাঁর বক্তব্য, “আমরা হারিনি, ভোট লুট হয়েছে। তাই পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই ওঠে না, রাজভবনে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই।” তিনি আরও বলেন, “কাউন্টিং সেন্টারও হাইজ্যাক করে নেওয়া হয়েছিল। ভোটে হার-জিত আছে, কিন্তু আমরা হারিনি, জোর করে দখল করেছে।” সেই সঙ্গে তিনি ভোটে হার নিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠনের ঘোষণা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমি চেয়ারের পরোয়া করি না, মানুষের কথাই ভাবি। ইঞ্চি ইঞ্চি লড়াই করেছি আমরা।” তিনি আরও বলেন, ”জোর করে দখল করার পর কেউ যদি মনে করে আমি পদত্যাগ করব, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। আমি এখনও মনে করি, এই জয় জোর করেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
সংবিধান কী বলছে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলে বা সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। চরম পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্তও করতে পারেন। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
শনিবার বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান
ভোট গণনা শেষে পরিষ্কার হয়েছে, দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। সূত্রের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী হতে চলেছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ৯ তারিখ শনিবার ব্রিগেড ময়দানে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে চলেছে। প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রী সহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন, পরে পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বরা উপস্থিত থাকবেন বলে সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ইস্তফা বিতর্ক ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে বিজেপি নেতৃত্ব দ্রুত সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দ্রুত সাংবিধানিক সমাধানের দিকে না গেলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুন: ২৫ শে বৈশাখ ব্রিগেডেই শপথ পদ্মের নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর
