8th Pay Commission
Bengal Liberty, ৫ মে :
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য অবশেষে খুশির খবর! অষ্টম বেতন কমিশন (8th CPC) নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে এবার রণংদেহি মূর্তিতে ময়দানে নামল মোদি সরকার। গত ২০২৫-এর নভেম্বরে পথ চলা শুরু করলেও ২০২৬-এর এপ্রিলে এসে কমিশনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে। 8th Pay Commission
৫১ পাতার বিস্ফোরক দাবিদাওয়া থেকে শুরু করে দেশজুড়ে ঝটিকা সফর নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ঘড়ি ধরে কাজ শুরু করে দিয়েছেন আধিকারিকরা। ন্যূনতম বেতন ৬৯ হাজার টাকা করার জোরালো দাবি আর ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর ডেডলাইনকে সামনে রেখে যে ভাবে ফাইল দৌড়াতে শুরু করেছে, তাতে স্পষ্ট যে সরকারি কর্মীদের পকেটে বড়সড় লক্ষ্মীলাভ এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

এপ্রিলেই তৎপরতা তুঙ্গে 8th Pay Commission
অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যক্রম বর্তমানে প্রাথমিক দফার পরিকল্পনা পেরিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গত ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার পর বর্তমানে এর ছয় মাস পূর্ণ হলো। নির্ধারিত ১৮ মাস সময়ের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ সময় অক্রান্ত হওয়ার পর এখন কমিশন তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করার কাজে বিশেষ জোর দিচ্ছে। গত এপ্রিল মাস থেকে কাজের যে দ্রুততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা থেকে স্পষ্ট যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনারদের জন্য বড় কোনও পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

ন্যাশনাল কাউন্সিলের ৫১ পাতার মেমোরেন্ডাম ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল নাগাদ চুক্তির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে কমিশন।
এর ঠিক পরেই ১৪ এপ্রিল, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM) কমিশনের কাছে ৫১ পাতার একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেয়। এই নথিতে কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধন, পেনশন সংস্কার এবং চাকরির সার্বিক শর্তাবলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলা হয়েছে। মাসের শেষে ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দিল্লিতে কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এনসি-জেসিএম প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা বেতন সংশোধনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
প্রাথমিক কাজগুলো গুছিয়ে নিলেও চূড়ান্ত সুপারিশের পথে আরও বেশ কিছু জটিল ধাপ বাকি রয়েছে। লক্ষ লক্ষ কর্মচারী এবং পেনশনারদের ডেটা অ্যানালিসিস বা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বিপুল সময়ের প্রয়োজন। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই কমিশনের মূল চ্যালেঞ্জ।
মোদি সরকারের লক্ষ্য হলো ১ জানুয়ারি, ২০২৭থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা। যদিও তথ্য বিশ্লেষণ এবং চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে, তবে জানুয়ারি ২০২৭ থেকেই কর্মচারীরা বকেয়া বা এরিয়ার (Arrears) সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এপ্রিলের এই নজিরবিহীন সক্রিয়তা প্রমাণ করছে যে, মন্থর গতি কাটিয়ে কমিশন এখন সঠিক লক্ষ্যমাত্রার দিকেই এগোচ্ছে।
