Rathindranath Bose
Bengal Liberty, ১৪ মে :
বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সমস্ত জল্পনা, সমীকরণ ও চর্চার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের স্পিকার হিসেবে মনোনীত হলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Bose )। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজ মাধ্যমে ১৮তম বিধানসভার স্পিকার হিসেবে এই বর্ষীয়ান নেতার নাম ঘোষণা করেন। অভিজ্ঞ তাপস রায়, বুদ্ধিজীবী স্বপন দাশগুপ্ত বা দাপুটে সজল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নামগুলোকে পেছনে ফেলে দলের এই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত এক নতুন মাত্রা যোগ করল (Rathindranath Bose )।

সাংগঠনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির পুরস্কার (Rathindranath Bose )
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বার্তায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, শ্রী রথীন্দ্রনাথ বসু সর্বসম্মতিক্রমেই স্পিকার পদে নির্বাচিত হবেন। নিয়মমাফিক নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পরই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বিরোধী শিবির প্রার্থী না দিলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই এই সাংবিধানিক পদে আসীন হবেন। দীর্ঘ সময় ধরে শিলিগুড়িতে দলের সাংগঠনিক রাশ হাতে রাখা এবং রাজ্য সহ-সভাপতির মতো গুরুদায়িত্ব পালন করা রথীন্দ্রনাথ বরাবরই আরএসএস ঘনিষ্ঠ। কোচবিহারের দেবীবাড়ির এই সন্তানের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তাঁকে যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে। পরিষদীয় রাজনীতির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কিছুটা অভাব থাকলেও, তাঁর জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে।

উত্তরবঙ্গকে সম্মান (Rathindranath Bose )
বাংলার সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম উত্তরবঙ্গের কোনো নেতা বিধানসভার স্পিকারের মতো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদে বসতে চলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ কে সম্মানপ্রদর্শন। এই মনোনয়ন প্রাপ্তির পর রথীন্দ্রনাথ বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলের দেওয়া দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগের সরকারের আমলে বিধানসভায় বিরোধীদের বলার ন্যূনতম পরিসর ছিল না। কিন্তু বিজেপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা চাই বিধানসভায় সুস্থ বিতর্ক হোক এবং সবাই সমান সুযোগ পাক।”
Shri Rathindra Bose;
Bharatiya Janata Party MLA of the Cooch Behar Dakshin (South) Constituency has been nominated as our Candidate for the Post of Hon’ble Speaker of the 18th West Bengal Legislative Assembly.
I hope that his Candidature is supported by one and all and he gets… pic.twitter.com/Tmb762gHBg— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) May 14, 2026
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তৃণমূল জমানার সংসদীয় ব্যবস্থাপনার বিপরীতে এক উদার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছে, রথীন্দ্রনাথের এই বলিষ্ঠ বার্তায় তারই সুস্পষ্ট প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এখন বঙ্গ রাজনীতির অন্দরমহলে একটাই প্রশ্ন, ১৮তম বিধানসভায় বিরোধীরা এই ঐতিহাসিক মনোনয়নকে কীভাবে গ্রহণ করে?
