CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ১৪ মে :
বাংলায় পরিবর্তনের সূর্য উদিত হতেই চেনা ছন্দে ফিরছে প্রশাসন (CM Suvendu Adhikari)। শপথ গ্রহণের পরেই ‘অ্যাকশন মোডে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ ১৫ বছরের তুষ্টিকরণের রাজনীতিতে দাড়ি টেনে এবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। এবার থেকে আর যেখানে-সেখানে বা প্রকাশ্য রাস্তায় পশুহত্যা করা যাবে না। আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে বুধবার নবান্নের পক্ষ থেকে পশুহত্যা রুখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে (CM Suvendu Adhikari)।

প্রকাশ্যে পশুহত্যায় জারি নিষেধাজ্ঞা (CM Suvendu Adhikari)
তৃণমূল জমানায় আইনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র পশুহত্যার যে রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল, তাতে এবার বড়সড় কোপ বসাল বিজেপি সরকার। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রকাশ্য স্থান বা রাস্তার ধারে কোনোভাবেই পশুহত্যা করা যাবে না। পশুবলি বা হত্যার জন্য শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানা ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও নতুন সরকার বড় পদক্ষেপ নিল বলে মনে করছে সকলে।
পশুহত্যার ক্ষেত্রে যে কড়া শর্তগুলো রয়েছেসার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক: গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুর হত্যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট থাকা আবশ্যিক। শংসাপত্র ছাড়া কোনোভাবেই এই কাজ করা যাবে না।
যৌথ শংসাপত্র : পশুহত্যার আগে পুরসভার চেয়ারম্যান/পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
আইনি প্রতিকার: যদি কেউ বৈধ কারণ থাকা সত্ত্বেও সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করেন, তবে ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।
কড়া শাস্তি: নিয়ম ভেঙে যত্রতত্র পশুহত্যা করলে অভিযুক্তের ৬ মাস পর্যন্ত জেল অথবা ১০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।
অন্যদিকে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের যে রায়গুলি এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল, সেগুলি এখন থেকে রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধ হবে।

তুষ্টিকরণের দিন শেষ, আইনের শাসন শুরু (CM Suvendu Adhikari)
বুধবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তাঁর সরকার সংবিধান মেনে চলবে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাংলায় যে ‘জঙ্গলরাজ’ চলেছে, যেখানে আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানো হতো, সেই সংস্কৃতিতে আজ ইতি পড়ল।
