ECL Coal Mine Accident
Bengal Liberty, ১৪ মে:
জামুড়িয়ার কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিপর্যয়। আজ সাতসকালে ইসিএলের (ECL) পড়াশিয়া কোলিয়ারিতে নামল ভয়াবহ ধস (ECL Coal Mine Accident)। খনির গভীরে ‘এয়ার ব্লাস্ট’-এর জেরে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে কয়লার চাঙড়। এখনও পর্যন্ত এক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, খনির অন্ধকার কুঠুরিতে এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান। ইতিমধ্যেই দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছে বিশেষ দল (ECL Coal Mine Accident)।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? (ECL Coal Mine Accident)
স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন সকালে পড়াশিয়া কোলিয়ারির ২৭ নম্বর সেকশনে একদল শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। সেই সময় আচমকা খনির ভেতরে প্রচণ্ড শক্তিশালী ‘এয়ার ব্লাস্ট’ হয়। বাতাসের প্রবল চাপে খনির ছাদ ও দেওয়াল থেকে কয়লার বড় বড় চাঙড় খসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে খনির অভ্যন্তরে থাকা শ্রমিকরা চারদিকে ছিটকে পড়েন এবং কয়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান।
উদ্ধারকাজ ও হতাহতের খবর (ECL Coal Mine Accident)
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে জখম শ্রমিকদের উদ্ধার করে রানিগঞ্জের বাঁশড়া এরিয়া হাসপাতাল এবং ইসিএলের নিজস্ব হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে, উদ্ধার হওয়া এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। খনির ভেতরে এখনও ধসের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ ও শ্রমিক বিক্ষোভ (ECL Coal Mine Accident)
এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই ইসিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত অভাব এবং কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণেই বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। খনির ভেতরে নজরদারি এবং সুরক্ষার পরিকাঠামো কেন আগে থেকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে খনি চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শ্রমিকরা।
সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কী কারণে এই ‘এয়ার ব্লাস্ট’ হলো বা কোথাও কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, তা জানতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে। বর্তমানে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য।
