Post Poll Violence
Bengal Liberty, ১৪ মে :
৪ মে, সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঐতিহাসিক ফল ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে পরাস্ত করে রাজ্যে প্রথমবারের জন্য শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে মানুষের আস্থা, ভরসা ও মন জয় করেছে বিজেপি। কিন্তু ফল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে ফের ভোট-পরবর্তী হিংসার চেনা ছবি ফিরে এলো। একুশের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি না হলেও অনেক জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে (Post Poll Violence)। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার আদালতে আইনজীবীর ভূমিকায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা:
ভোট-পরবর্তী অশান্তি রুখতে এবং ঘরছাড়াদের নিরাপদে ফেরাতে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টে সওয়াল করেন। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অশান্তির জেরে যাঁদের বাড়ি বা দোকান ভাঙচুর হয়েছে কিংবা যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা দিয়ে দ্রুত ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকেই।
আদালতের নির্দেশ : (Post Poll Violence)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা এই মামলায় বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। ঘরছাড়াদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও শীঘ্রই সকল ঘরছাড়াদের সমস্ত রকম নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের—এ কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
রিপোর্ট তলব :
আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করার ডেডলাইন দিয়েছে আদালত। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রমাণ পেশ করার আর্জিও জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
বেনজির ছবি:
কোর্টে সওয়াল-জবাব শেষ হওয়ার পরই এক বেনজির ছবি ধরা পড়ে। প্রধান বিচারপতির এজলাস থেকে বাইরে কোর্ট পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে আইনজীবীদের একাংশ “চোর চোর” স্লোগান তোলেন। পরিস্থিতি প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে যায়। তারপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোর্ট ছাড়তেই পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই ধরনের বেনজির ছবি পশ্চিমবঙ্গের বুকে আগে কোনোদিন দেখা যায়নি। আগের শাসক দল কী কী নজির সৃষ্টি করে গিয়েছে, তা বেশ বোঝাই যাচ্ছে।

বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপ:
একদিকে যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে পরাজিত হওয়ার পর আইনজীবীর ভূমিকায় নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে ব্যস্ত, অন্যদিকে আবার ইন্ডিয়ান বার কাউন্সিল অ্যাসোসিয়েশন রাজ্য বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে আদৌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওকালতি করার জন্য যোগ্য কি না। কারণ দীর্ঘ অনেক বছর তিনি রাজনীতির ময়দানেই ছিলেন—একাধিকবার সাংসদ এবং তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী দ্বায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
হঠাৎ করে কোর্টে অনুশীলন না করে কোনো ব্যক্তি এইভাবে কোনো মামলা লড়তে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাই রাজ্য বার কাউন্সিল তাঁর নাম্বার, কোন বছরের অনুশীলনের সময়, কেন তিনি এত বছর কোর্টে প্র্যাকটিস করেননি—এই বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে একটি সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
ভোটে পরাজিত, তবুও শিরোনামের দৌড়ে মমতা। প্রশ্ন একটাই—মামলা দায়ের করে কি ফের উল্টোদিকের দরজা দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশের পথ খুঁজছেন তিনি? নাকি সত্যিই নতুন পেশা বেছে নিয়ে উকিলের ভূমিকায় ঘরছাড়াদের পাশে দাঁড়াতে মরিয়া? এর উত্তর খুব শীঘ্রই মিলবে।
