Real Time Tracker
Bengal liberty desk,14 মে ,কলকাতা:
২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ের পর বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করেছে (Real Time Tracker)। শপথ গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি অভিনব ওয়েবসাইট— ‘রিয়েল-টাইম প্রমিস ট্র্যাকার’ [Https://bjp-govt-wb.pages.dev/]। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এটিকে সরকারি উদ্যোগ বলে দাবি করলেও, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য।

নাগরিক নজরদারির ডিজিটাল হাতিয়ার Real Time Tracker
সাধারণত সরকারি ওয়েবসাইটের শেষে ‘.gov.in’ থাকলেও, এই ওয়েবসাইটের ডোমেইন এক্সটেনশন হলো ‘.dev’। তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এটি কোনো সরকারি পোর্টাল নয়; বরং প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল কতটা, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে ‘Mr. Bhawjo’ নামে এক এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারী এবং তাঁর সহযোগীরা এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করেছেন। ডেভেলপারদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক ওয়েবসাইট নয়, বরং সাধারণ মানুষের পরিচালিত একটি ‘পাবলিক নোটপ্যাড’, যাতে নির্বাচনের আগে দেওয়া ১৪০টি প্রতিশ্রুতির কথা কেউ ভুলে না যায়।

ট্র্যাকারে কী দেখা যাচ্ছে?
পোর্টালটিতে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্প পত্র’-এর ১৪০টি প্রতিশ্রুতির তালিকা দেওয়া হয়েছে।১৪০টির মধ্যে ১১টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে। এর মধ্যে মহিলাদের জন্য ৩,০০০ টাকা মাসিক সহায়তা (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার), অনুপ্রবেশ দমনে কড়া পদক্ষেপ, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এখনও ১২৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে একটি লাইভ ঘড়ি চলছে, যা সরকারের হাতে থাকা অবশিষ্ট সময়— বছর, মাস, দিন এবং সেকেন্ডে নিখুঁতভাবে তুলে ধরছে। যেমন, বুধবার রাত পর্যন্ত দেখা গেছে লক্ষ্যপূরণে সরকারের হাতে সময় আছে ৪ বছর ১১ মাস ২৫ দিন ১৮ ঘণ্টা।
প্রশাসনিক তৎপরতা বনাম ডিজিটাল রিপোর্ট কার্ড:
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর, সরকারি চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকারদের আইনি সহায়তার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওয়েবসাইটটি এই প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলোকেই রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করছে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব:
সংবাদমাধ্যমে একে সরকারি পোর্টাল হিসেবে প্রচার করা হলেও, এটি আসলে আধুনিক রাজনীতির এক নতুন মোড়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ‘মেমোরি’ বা স্মৃতিশক্তি অনেক সময় ফিকে হয়ে যায়, কিন্তু এই ধরনের ‘সিটিজেন ট্র্যাকার’ আগামী পাঁচ বছর সরকারকে প্রতি মুহূর্তে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেবে। ফাঁকি দেওয়ার দিন যে ফুরিয়ে আসছে, এই ডিজিটাল রিপোর্ট কার্ড তারই প্রমাণ।
নিজের রাজ্যের জন্য এমন স্বচ্ছ ট্র্যাকার তৈরি করতে অন্য রাজ্যের নাগরিকদেরও উৎসাহিত করছেন এই পোর্টালের নির্মাতারা। সব মিলিয়ে, শুভেন্দু সরকারের কাজের হিসেব কষতে এই ডিজিটাল নজরদারি এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন হট টপিক।
