CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ১৬ মে:
পশ্চিমবঙ্গে ‘শাসকের আইন’ নয়, বরং ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠায় আরও এক বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari )। দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি পুলিশি ব্যবস্থায় বড়সড় অ্যাকশন নিলেন তিনি (CM Suvendu Adhikari )।

রাজনৈতিক আখড়া ভাঙলেন শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari )
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণের কথা বলে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ ছিল, কল্যাণের আড়ালে এই বোর্ড আসলে শাসকদলের একটি রাজনৈতিক শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই বোর্ড পুলিশের কতটা মঙ্গল করেছে জানি না, তবে শান্তনু সিংহ বিশ্বাস বা বিজিতাশ্বর রাউতদের মতো অফিসারদের আখের গুছিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।” উল্লেখ্য সোমবারই এই বোর্ড বিলুপ্তির সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে শান্তনু গ্রেফতার হওয়ার পরই এই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক মহলে বড় বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।

তোলাবাজি ও কাটমানি নিয়ে জিরো টলারেন্স (CM Suvendu Adhikari )
রাস্তাঘাটে টোটো, অটো কিংবা হকারদের কাছ থেকে পুলিশের নামে যে ‘তোলা’ তোলা হতো, তা নিয়ে এদিন চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রসিদ ছাড়া কাউকেই কোনো টাকা দেওয়া যাবে না। কেউ যদি জোর করে টাকা আদায় করতে চায়, তবে সাধারণ মানুষকে সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে বিগত দিনে যাঁরা ‘কাটমানি’ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য পোর্টাল ও থানার দরজা খুলে দিচ্ছে নতুন সরকার। অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্যাতিত ও ঘরছাড়াদের জন্য খুলে গেল থানার দরজা (CM Suvendu Adhikari )
বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া মানুষ এবং থানায় গিয়ে হেনস্থার শিকার হওয়া মহিলাদের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এ বার আর পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করতে পারবে না। যাঁরা অন্যায়ভাবে পুলিশের দ্বারা হেনস্থা হয়েছেন বা রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন, তাঁরা তথ্যপ্রমাণ নিয়ে থানায় আসুন।” এছাড়াও তিনি বলেন “পুলিশকে এখন দলদাসের ভূমিকা ছেড়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। থানায় আসা কোনো সাধারণ মানুষকে যেন ফিরে যেতে না হয়।”
সবমিলিয়ে,পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং কাটমানি-তোলাবাজির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ঘোষণা আসলে বাংলার প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণের পথে এক বিরাট পদক্ষেপ। শান্তনুর মতো ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ অফিসারদের সাম্রাজ্য চুরমার করে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষকে যে সাহসের বার্তা দিলেন, তা নিতান্তই প্রশংসনীয়।
