Ratna Debnath
Bengal liberty desk, 19 মে, কলকাতা :
সমাজ যখন তথাকথিত ‘এলিট’ বা উচ্চশিক্ষিত তকমা নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে গসিপ করতে ব্যস্ত, তখন রাস্তার লড়াইয়ে এক অন্য ইতিহাস লিখছেন রত্না দেবনাথ। আরজি কর-কাণ্ডে বিচার চাওয়ার লড়াইয়ে তাঁর এই অদম্য জেদকে এবার কুর্নিশ জানালেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী (Ranta Debnath)। তবে এই কুর্নিশ কেবল জয়ের জন্য নয়, এই কুর্নিশ এক নির্ভীক মাতৃত্বের প্রতি, যা সমাজের ‘ভদ্র’ মুখোশটা টেনে খুলে দিয়েছে।

অঙ্কিতার সর্বসম্মুখে অভিবাদন
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় অঙ্কিতা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি তুলে ধরেছেন এক রূঢ় বাস্তব— আমরা দেখি অনেক উচ্চশিক্ষিত পরিবারে নারীরা নিগৃহীত হলেও বা চরম কোনো অপরাধ ঘটলেও লোকলজ্জার ভয়ে তারা মুখ বুজে থাকেন। তথাকথিত সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় তারা প্রতিবাদ বিসর্জন দেন। কিন্তু রত্না দেবনাথ কোনো ‘এলিট’ ক্লাসের প্রতিনিধি নন, তিনি একজন সাধারণ মা। অতি কষ্টে নিজের মেয়েকে বড় করে ডাক্তার বানিয়েছিলেন, আর সেই মেয়ের সঙ্গেই ঘটে যাওয়া নৃশংসতার পর তিনি ঘরে বসে থাকেননি।

অঙ্কিতার কথায়, রত্না দেবনাথ আজ রাজনীতির আঙিনায় আসায় অনেকেই অনেক কথা বলছেন, কিন্তু দিনশেষে তাঁর আসল পরিচয় তিনি একজন ‘মা’। যে মা নিজের মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার সাহস দেখিয়েছেন। যেখানে শিক্ষিত সমাজ ঘরের কোণে বসে কেবল সমালোচনা করতে জানে, সেখানে রত্না দেবনাথ রাস্তায় নেমে গলা উঁচিয়ে সত্যিটা বলার ক্ষমতা দেখিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘উলঙ্গ রাজা’ কবিতার সেই বিখ্যাত পঙক্তিটি মনে পড়ে যায়। কবিতায় দেখা গিয়েছিল, রাজা উলঙ্গ জেনেও সমাজের শিক্ষিত, জ্ঞানী-গুণী সভাসদগণ ভয়ে বা তোষামোদে চুপ ছিলেন। কেবল একটি শিশু সত্য বলার সাহস দেখিয়েছিল— “রাজা তোর কাপড় কোথায়?” যখন সমাজের একটা বড় অংশ সব জেনেও নিজেদের আখের গোছাতে বা সম্মানের ভয়ে চুপ করে থাকে, তখন রত্না দেবনাথের মতো একজন মা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন যে শিরদাঁড়া সোজা রেখে প্রতিবাদ কাকে বলে। শিক্ষিত সমাজ যা পারেনি, একজন মা হিসেবে তিনি তা করে দেখিয়েছেন।
এই লড়াই কেবল বিচারের নয়, এই লড়াই তথাকথিত সুশীল সমাজের মেরুদণ্ডহীনতাকে চপেটাঘাত করার লড়াই। অঙ্কিতার এই বার্তা আজ প্রতিটি সাধারণ মানুষের মনে প্রতিবাদের নতুন আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
