swarup biswas
বেঙ্গল লিবার্টি, কলকাতা:
রাজ্য জুড়ে ভয় আউট , ভরসা ইন হয়েছে। ভয় ভীত হয়ে থাকার জামানা পাল্টেছে। মুখ খুলল গোটা টলিপাড়া সহ টেকনিশিয়ান ষ্টুডিও (Technician Studio)। ধীরে ধীরে স্বরূপ প্রকাশ হলো অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের। মুখ খুলল টেকনিশিয়ান্স সহ অভিনেতারা। সরকার বদলাতেই, ‘ব্যান থেকে খুনের হুমকি, পুলিশি হেনস্থা, তাল মেলাতে না পারলেই কাউন্সিলর দিয়ে শাসানি’, ইত্যাদি বিবিধ অভিযোগ তুলে বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের কাছে অন্দরমহলের সত্য উন্মোচন করলো টলিপাড়া (Technician Studio)।

মুখ খুললো পরমব্রত
মিটিংয়ে রুদ্রনীলের পাশে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা পরমব্রত। বিগত বছরগুলিতে তৃণমূলের আশেপাশে তাকে দেখা গেলেও অজানা সত্য সামনে এলো। অভিনেতা সর্বসমক্ষে নির্দ্বিধায় জানালেন, ” তোমরা সকলে আমার পরিবারের অংশ। স্বীকারোক্তি দিতে আপত্তি নেই। আমাকেও কম্প্রোমাইসে করতে হয়েছে, সেই সময়ে যে জিনিসের মধ্যে দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে, আমি ওই সময়ে আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সব মেনে নিতে হয়েছিল, আমার কোনো উপায় ছিল না তাই। আমার কারুর ওপর রাগ নেই, শুধু এরম অপমান যেন কারুর সাথে না হয়। ”

টেকনিশিয়ান্সদের অভিযোগ
গতকাল, টেকনিশিয়ান্স ষ্টুডিওতে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। টেকনিশিয়ান্সরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে, কেউ অভিযোগ করলেন ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে, কেউ অভিযোগ করেন কীভাবে তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কথায় সায় না দিলে রীতিমত হুমকি, থ্রেট, কাউন্সিলরকে দিয়ে ভয় দেখানো, পুলিশ পাঠানো ইত্যাদি বিবিধ তথ্য সামনে আসে।
বাদ পড়েনি অসহায় মহিলা টেকনিশিয়ান্স
একজন মহিলা টেকনিশিয়ান্স অভিযোগ জানায়, ” বিগত দু’বছর ধরে কোনও কাজ নেই। কাজ নেই কেন জানি না। কাজ কিন্তু হচ্ছে। আমি স্বরূপদাকে ফোন করি যে দাদা, আমার বাড়িতে আমি একমাত্র রোজগারে। আমার মা আছে, আমার মেয়ে আছে। আমাকে যদি কাজ না করতে দেন, তাহলে আমার সুইসাইড ছাড়া কোনও রাস্তা নেই। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কাছে আসে, তুমি অন্যায় করেছো। তোমার যদি মনে হয় তুমি সুইসাইড করবে। তুমি করে নিতে পারো।”
এখানেই শেষ নয়, এরপর তিনি জানান স্বরূপ বিশ্বাসের মুখোশের আড়ালের আসল স্বরূপকে। তিনি বলেন, ” আমার মা যখন হসপিটালাইজড, আমার মা মারা যান। আমি আমার সেক্রেটারিকে ফোন করি। যিনি অরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত খাস লোক। আমার বলতে কোনও ভয় নেই। এতদিন ভয় ছিল। সে সবটা জানত। তাকে যখন হাসপাতালে দাঁড়িয়ে ফোন করি যে, আমার মায়ের কিছু ডকুমেন্ট নেই। আমার মা-কে যাতে শ্মশানে নিয়ে গেলে অসুবিধা না হয়…আমাকে একটু দাদাকে বলে ব্যবস্থা করে দিবি ? বলল, আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দাও। পাঁচ মিনিট পর যেটা আমার কাছে এল, তোমার মা-কে কি লাওয়ারিস লাশ হিসাবে পোড়াবে ? দাদা জিজ্ঞাসা করছে। বলা হয়েছে, আমাকে দিয়ে যাতে কাজ না করা হয়।”
রীতিমত মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে চুপ করে থাকতে হতো সকলকে। চলত একছত্র অত্যাচার। অবশেষে বেরিয়ে এলো আসল সত্যি। হয়ত নতুন সরকার কিছু পরিবর্তন করবে, আশায় সোনার বাংলা।
