Parambrata Chattapadhay
Bengal liberty desk, 21 মে, কলকাতা:
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ঘটে গেছে বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। আর এই পরিবর্তনের ঝড় এসে লেগেছে টলিউড স্টুডিও পাড়াতেও (Parambrata Chattapadhay)। গত কয়েক বছর ধরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যে ‘ব্যান কালচার’ বা অলিখিত নিষেধাজ্ঞার রাজনীতি চলছিল, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
গত বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের ডাকে একটি বিশেষ বৈঠক বসেছিল। সেখানে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, সৌরভ দাসের মতো একঝাঁক পরিচালক ও প্রযোজকদের উপস্থিতিতেই অতীতে নিজের ওপর হওয়া মানসিক অত্যাচারের কথা বলতে গিয়ে কার্যত চোখের জল ফেললেন পরমব্রত।

কেন ক্ষমা চাইতে হয়েছিল পরমব্রতকে? Parambrata Chattapadhay
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪-২০২৫ সালে। টলিউডে ‘নন-মেম্বার’ বা বাইরের কলাকুশলীদের নিয়ে কাজ করা এবং ফেডারেশনের কিছু কড়া নিয়মের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরমব্রতসহ বেশ কয়েকজন পরিচালক। পরমব্রতের অভিযোগ, আদালতে যাওয়ার অপরাধে তাঁকে টলিউডে অলিখিতভাবে ‘ব্যান’ বা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় তাঁর সমস্ত কাজ ও রুজি-রুটি।

ঠিক সেই কঠিন সময়েই পরমব্রত এবং তাঁর স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তীর ঘরে আসে তাঁদের সন্তান। একদিকে সদ্যজাত পুত্রসন্তান, অন্যদিকে হাতে কোনো কাজ নেই— এই চরম অসহায় পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তাঁকে মাথা নোয়াতে হয়েছিল ফেডারেশনের তৎকালীন মাথা ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর (অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাস) কাছে। এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চাইতে হয়েছিল তাঁকে।
সেই যন্ত্রণার কথা মনে করে বৈঠকে পরমব্রত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমাকে চরম অপমান সহ্য করতে হয়েছিল। তখন আমার ছেলে হয়েছে। শুধু সেই সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে আমি ক্ষমা চেয়েছিলাম। কারণ আমাদের সবাইকে রোজগার করে বাঁচতে হয়, এছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।”

“২০১১-র আগের বাম আমলের টলিউড ফিরে আসুক”
দীর্ঘ ২৫ বছরের বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষের পাশে বসে পরমব্রত স্পষ্ট জানান, টলিউডের মাথায় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের থাকা উচিত নয়। সিনেমা বোঝেন এমন মানুষই যেন ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্বে থাকেন। তাঁর কথায়, “২০১১ সালের আগে বাম আমলে আমরা সবাই খুব আনন্দে, স্বাধীনভাবে কাজ করতাম। সেই পরিবেশ আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। শুটিংয়ের সময় কে কোন দল করেন, কে লাল সেলাম বা কে জয় শ্রীরাম বললেন— তা যেন গুরুত্ব না পায়। সিনেমা হোক সবার আগে।”
কী আশ্বাস দিলেন রুদ্রনীল ঘোষ?
নতুন সরকারের তরফ থেকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং রুদ্রনীল ঘোষের ওপর টলিউডের সমস্যা মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত টেকনিশিয়ানরা প্রাক্তন শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন।
সব শুনে রুদ্রনীল ঘোষ সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন আপনাদের সমস্যাগুলো শুনে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জানানোর জন্য। টলিউডে আর কোনো ভয়ের পরিবেশ বা ফতোয়া জারি করে কাজ বন্ধ করা চলবে না। রাজনৈতিক রঙ দেখে নয়, এবার থেকে কাজ মিলবে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে।” টলিউডের এই রদবদল এবং পরমব্রতের এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এখন টলিপাড়ার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
