Falta Record Vote
Bengal liberty desk, 21 মে, ফলতা :
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪৪-ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে আজ লক্ষ্য করা গেল এক অভাবনীয় চিত্র। সকাল থেকেই বুথে বুথে ছিল মানুষের দীর্ঘ লাইন (Falta Vote)। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের গ্রাফ যেভাবে উর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাতে কার্যত চমকে গেছে রাজনৈতিক মহল। বিকেল ৩টে বাজতে না বাজতেই ফলতায় ভোটদানের হার ছাড়িয়ে গেল ৭৪ শতাংশ!

এক নজরে ভোটের গ্রাফ Falta Vote
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ল ভোট
আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ভোটের হারের দিকে তাকালে বোঝা যায়, মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী , সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২০.৪৭শতাংশ।
বেলা ১১টায় তা বেড়ে হয়েছে ৪২.৮৩শতাংশ, দুপুর ১টায় ৬০.৪৩শতাংশ এবং বিকেল ৩টেয় ৭৪.১০শতাংশ, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮৬.১১ শতাংশ। ।
মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ভোটের হার ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশে পৌঁছানো প্রমাণ করে যে, এবারের পুনর্নির্বাচনে ফলতাবাসী তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে কতটা মুখিয়ে ছিলেন।

জাহাঙ্গীরের অনুপস্থিতি:
ভয়ের বদলে বুথে ফিরল স্বস্তি। ভোটের এই বিপুল হারের নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে। যদিও ইভিএম-এ তাঁর নাম ও প্রতীক ছিল, কিন্তু তিনি ও তাঁর বাহিনী বুথের ত্রিসীমানায় না থাকায় আমূল বদলে যায় ফলতার চেনা ছবিটা।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিগত নির্বাচনগুলোতে জাহাঙ্গীরের বাহিনীর দাপটে তাঁরা ভোটকেন্দ্রের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারতেন না। হাতে কালি লাগিয়ে তাঁদের বুথ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু আজ চিত্রটা ছিল অন্যরকম। কোনো ফতোয়া নেই, কোনো বাধা নেই— দীর্ঘ বছর পর ফলতার মানুষ কোনো রক্তপাত বা অশান্তি ছাড়াই নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন।
“জাহাঙ্গীর ছিল না, তাই বুথে ফিরল শান্তি”
বুথ থেকে বেরোনো সাধারণ ভোটারদের কথায়, “পুষ্পা অর্থাৎ জাহাঙ্গীর লড়াই থেকে সরে যাওয়াতে আমাদের ওপর থেকে মানসিক চাপ কমে গেছে। শান্তিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে পারলাম।” ১৫৬ নম্বর বুথে ভোট দেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাও।
নিশ্ছিদ্র পাহারায় ভোট-পরীক্ষা:
প্রতিটি বুথে ৮ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং সিসিটিভির কড়া নজরদারিতে এবার কোনো ফাঁক রাখেনি কমিশন। একদিকে জাহাঙ্গীরের ‘বেপাত্তা’ হওয়া আর অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘ফুল সেকশন’ নিরাপত্তা— এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই আজ ফলতায় কার্যত উৎসবের মেজাজে ভোট সম্পন্ন হলো। এখন প্রশ্ন হলো, ফাঁকা মাঠে এই বিপুল ভোট কার বাক্সে বেশি পড়বে? উত্তর মিলবে আগামী ২৪ মে।
