Kolkata Municipal Corporation
Bengal Liberty, ২১ মে :
বিধানসভা নির্বাচনে সবই যেন উলটপুরাণ! খাস কলকাতার বুকেই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল ঘাসফুলের দুর্গ (Kolkata Municipal Corporation)। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতেই পদ্ম-শিবিরের বিপুল উত্থান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, খাতায়-কলমে কলকাতা পুরনিগম তৃণমূলের দখলে থাকলেও, আদতে পায়ের তলার মাটি অনেকটাই আলগা হয়ে গেছে। আর এই শোচনীয় ফলাফলের সরাসরি ধাক্কা এসে লেগেছে কলকাতা পুরনিগমের অলিন্দে। মেয়রের দপ্তরে ভাঙার নোটিস থেকে শুরু করে দলের অন্দরের চরম অস্থিরতা, সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন স্পষ্ট ‘অশনি সংকেত’। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার জল্পনা এখন রাজনৈতিক মহলের ‘টক অফ দ্য টাউন’। এই চরম ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে শুক্রবারই কালীঘাটে দলের কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি তলব করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Kolkata Municipal Corporation)।

ইস্তফার পথে মেয়র? (Kolkata Municipal Corporation)
বিপর্যয়ের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পুরনিগমের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম ডামাডোল ও অস্থিরতা। দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব এখন প্রকট। খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অজ্ঞাতসারেই তাঁর দপ্তরে ভাঙার নোটিস পাঠানো এবং মালা রায়ের বিরুদ্ধে মামলার মতো ঘটনা ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, দলের এই ডামাডোল এবং শহরের বুকে দলের এমন শোচনীয় ফলাফলের জেরে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ ববি হাকিম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি নাকি ইতিমধ্যেই মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন।

কালীঘাটে হাইভোল্টেজ বৈঠক (Kolkata Municipal Corporation)
এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটে তড়িঘড়ি তৃণমূল কাউন্সিলরদের ডেকে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলের যে সমস্ত কাউন্সিলররা বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের ওয়ার্ডে লিড দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত বিশ বাঁও জলে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের কী বার্তা দেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। পুরনিগমের অবস্থা যে কতটা টালমাটাল, তার প্রমাণ মিলেছে বৃহস্পতিবারের একটি বিজ্ঞপ্তিতেও। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শুক্রবারের নির্ধারিত পুর অধিবেশন আচমকাই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরে কলকাতা পুরনিগমের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ফিরহাদ হাকিম সত্যিই মেয়রের চেয়ার ছাড়েন, তবে প্রশাসক বসানোর চেনা পথে না হেঁটে তড়িঘড়ি নির্বাচনের পথেই হাঁটতে পারে রাজ্যের নতুন সরকার। এখন সকলের নজর শুক্রবারের কালীঘাটের দিকে। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই আপৎকালীন বৈঠক কি পারবে পুরসভার এই টলটলায়মান নৌকার হাল ধরতে, নাকি খাস কলকাতায় আসন্ন পুরভোটের আগেই নতুন কোনও রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সাক্ষী থাকবে বাংলা?
