Kolkata Municipal Corporation
Bengal Liberty, ২২ মে :
কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন লালবাড়িতে শুক্রবার দেখা গেল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক (Kolkata Municipal Corporation)! রাজ্যের শাসনক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর, কলকাতা পুরসভাতেও কি এবার কোণঠাসা হতে চলেছে তৃণমূল? এদিন পুরসভার মাসিক অধিবেশনের জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় ঝুলতে দেখা গেল পেল্লায় তালা! বাধ্য হয়ে বিশাল অধিবেশন কক্ষের বদলে, কাউন্সিলর্স ক্লাব রুমে বসল তৃণমূলের কার্যত ‘ঘরোয়া’ বৈঠক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটিয়ে বিজেপি সরকার গড়লেও, পুরবোর্ডের রাশ এখনও তৃণমূলের হাতেই। কিন্তু এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক আবহে, খোদ পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা (Kolkata Municipal Corporation)।

নিয়মের কড়াকড়ি, নাকি তৃণমূলের পুরনো অভ্যাস? (Kolkata Municipal Corporation)
নির্ধারিত সূচি মেনে এদিন মাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে পৌঁছেছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং চেয়ারপার্সন মালা রায়-সহ অন্যান্য কাউন্সিলরেরা। কিন্তু মূল অধিবেশন কক্ষের দরজায় তালা দেখে কার্যত হতভম্ব হয়ে যান তাঁরা। এতদিন লালবাড়িকে নিজেদের দলীয় কার্যালয় বানিয়ে ফেলা তৃণমূল নেতারা এবার ধাক্কা খেলেন কড়া নিয়মের গেরোয়। খোদ নতুন সেক্রেটারি চাবি দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। তাঁর যুক্তি অত্যন্ত স্পষ্ট— আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগে তিনি নিয়ম ভেঙে চাবি হস্তান্তর করতে পারেন না। বারবার চাপ সৃষ্টি করা হলেও প্রশাসনিক নিয়মের প্রশ্নে তিনি অবিচল থাকেন। ফলস্বরূপ, কোনো উপায় না দেখে ক্লাব রুমেই টেবিল-চেয়ার গুছিয়ে শুরু হয় তৃণমূলের অধিবেশন।

শাসকদলের হতাশা (Kolkata Municipal Corporation)
রাজ্যের ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার প্রবল হতাশা এদিন স্পষ্ট ধরা পড়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের গলায়। সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশাসনিক কড়াকড়িকে তিনি ‘গণতন্ত্রের চরম অপমান’ বলে তোপ দাগেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে দলের আমলে রাজ্যের সর্বত্র বিরোধীদের বারবার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, আজ তাদের মুখে সাংবিধানিক সঙ্কটের কথা শুনে আমজনতা মুচকি হাসছে। বর্ষায় জল জমা বা নাগরিক বিপর্যয়ের জুজু দেখিয়ে মেয়র আসলে বিগত দিনগুলোর চরম ব্যর্থতা এবং দুর্নীতি থেকেই মানুষের নজর ঘোরাতে চাইছেন। তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই ক্ষোভ আসলে পুরসভার রাশ হাতছাড়া হওয়ার ভয় থেকেই উৎসারিত।

দুর্নীতির দুর্গে কি এবার তালা পড়ল? (Kolkata Municipal Corporation)
বিধানসভায় ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে নতুন সরকার। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে পুরসভার শাসকদল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনা পুরসভাকে অকেজো করার জন্য বিজেপির চক্রান্ত। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কলকাতা পুরসভাকে এতদিন ধরে যেভাবে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল, এখন নিয়মের রাশ টানলেই তৃণমূলের গায়ে তা ‘চক্রান্ত’ হিসেবে বিঁধছে। জনপ্রতিনিধিদের কাজ মানুষের প্রকৃত সেবা করা, অধিবেশন কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে নাটক করা নয়।
