TMC Leader Arrested
Bengal Liberty, ২৩ মে :
দীর্ঘদিন ধরে নদিয়ার আড়ংঘাটা এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রাখা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রমজান আলী মন্ডলকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ (TMC Leader Arrested)। তার সঙ্গে ধরা পড়েছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রদীপ সাতরাও। শনিবার ধানতলা থানার পুলিশ দু’জনকেই রানাঘাট আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের (TMC Leader Arrested)।

‘এলাকার ত্রাস’ রমজান আলী (TMC Leader Arrested)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আড়ংঘাটার হাজরাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কার্যত দাপটের সঙ্গে রাজত্ব চালাত রমজান আলী। অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, মারধর, জোর করে নদীর ঘাটের ফেরি নিয়ন্ত্রণ, এমনকি নির্মাণ সামগ্রীর সিন্ডিকেট চালানোর মতো একাধিক বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। এলাকায় কেউ বাড়ি বা দোকান নির্মাণ করতে গেলেই রমজানের লোকজনের কাছ থেকেই চড়া দামে বালি, সিমেন্ট ও পাথর কিনতে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করলেই নেমে আসত হুমকি ও অত্যাচার।
এলাকার বহু বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রমজানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল। কিন্তু ভয় ও আতঙ্কের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। অবশেষে গ্রামের বাসিন্দা রাজকুমার চৌধুরী সাহস দেখিয়ে আড়ংঘাটা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে রমজান আলী মন্ডল ও প্রদীপ সাতরার বিরুদ্ধে অত্যাচার, ভয় দেখানো এবং দখলদারির একাধিক অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগ পেতেই তৎপর ধানতলা থানার পুলিশ (TMC Leader Arrested)
অভিযোগ পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয় ধানতলা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পরিকল্পনা করা হয়। এরপর বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে হাজরাপুরে অভিযান চালানো হয়। রমজানের বাড়ি ঘিরে ফেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময়ে বাজার এলাকা থেকে ধরা হয় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রদীপ সাতরাকে। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দু’জনকেই ধানতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এলাকার বাইরে তাদের কোনও যোগাযোগ বা প্রভাব বিস্তার ছিল কি না। পুলিশি তদন্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও অনুমান।

ঘটনার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও সাধারণ মানুষের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, “অনেক দিন ধরেই আমরা আতঙ্কে ছিলাম। কেউ প্রতিবাদ করতে পারত না। পুলিশ এবার ব্যবস্থা নেওয়ায় মানুষ কিছুটা সাহস ফিরে পাচ্ছে।” আড়ংঘাটার বাসিন্দাদের আশা, এই গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ ভয়মুক্তভাবে বসবাস করতে পারবেন।

