Bengal Liberty Desk, ১৩ ডিসেম্বর, কলকাতা: ফের উত্তপ্ত থাইল্যান্ড – কম্বোডিয়া সীমান্ত (Thailand Cambodia ceasefire)। বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার বাসিন্দা। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘাত অব্যাহত (Thailand-Cambodia conflict)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণার পরেও থাই ও কম্বোডিয়ান বাহিনীর মধ্যে লড়াই অব্যাহত আছে। ট্রাম্প শুক্রবার রাতে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার পর জানান যে তারা “আজ সন্ধ্যে থেকে গুলিবর্ষণ বন্ধ করতে” রাজি হয়েছে। তবে, থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল (Anutin Charnvirakul) ট্রাম্পকে বলেছেন যে কম্বোডিয়া তাদের সমস্ত বাহিনী প্রত্যাহার এবং ল্যান্ডমাইন অপসারণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে না।এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আমেরিকা সমর্থিত শান্তি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাঙ্কক(Bangkok)।

ক্ষয়ক্ষতি (Thailand-Cambodia conflict) (Thailand-Cambodia conflict effect)
যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষ চলছে। আনুতিন সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করেছেন, থাইল্যান্ড তাদের ভূমি ও জনগণের জন্য আর কোনো ক্ষতি বা হুমকি বরদাস্ত করবে না। ক্ষতি বা হুমকি যতদিন না থামছে তাঁদের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। শনিবার ভোরেও লড়াই চলছে এবং থাই বাহিনী সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখলের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৬ লক্ষ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক্স পোস্টে জানিয়েছে, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে থাই সেনাবাহিনী দুটি F-16 যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে সাতটি বোমা ফেলেছে। এই নতুন করে সংঘাতে কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের ৭ লক্ষ্য মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

সূচনা (Thailand-Cambodia conflict reason) (Why Thailand Cambodia war started?)
সূত্রের খবর, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি জুলাইতে শুরু হয়েছিল। তাতে দু’পক্ষের ৪৩ জন নিহত হয় এবং যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার আগে প্রায় তিন লক্ষ লোক বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। সেই সময়, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প সীমান্ত সংঘাতের অবসানে একটি ঐতিহাসিক সাফল্যের দাবি করেছিলেন। তাঁর এই ভূমিকার জন্য কম্বোডিয়া ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সেই যুদ্ধবিরতি টেকসই হয়নি (Donald Trump on Thailand Cambodia Conflict) (Thailand Cambodia conflict reason)।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের উপনিবেশ থাকার সময় থেকেই সীমানা চিহ্নিতকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মতবিরোধ। দুই দেশই সীমান্ত বরাবর বেশ কয়েকটি ধর্মীয় স্থান নিজেদের বলে দাবি করে। দুই দেশের সীমানা চিহ্নিতকরণ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চলছে মতবিরোধ (Why Thailand Cambodia war started?)।
