Bengal Liberty Desk, ১৩ ডিসেম্বর, কলকাতা: ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছেন, তা বেআইনি। এই মর্মে মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস-এ প্রস্তাব পেশ হল (Trump Illegal Tariffs on India)। অবিলম্বে ওই শুল্ক বাতিল করা উচিত,এই মর্মে শুক্রবার এমনই এক প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস-এ। তার পাশাপশি এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে এই চড়া শুল্ক শুধু ভারতের নয়, আখেরে আমেরিকারই ক্ষতি করছে। ফলে অবিলম্বে তা বাতিল করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবের নেপথ্য (Trump Illegal Tariffs on India):
মার্কিন সংসদের (USA Parliament) নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস-এ পেশ করা এই প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছেন ওই কক্ষের তিন জন সদস্য— ডেবোরা রস, মার্ক ভিসে এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজা কৃষ্ণমূর্তি। শুধুমাত্র ভারতই না তার পাশাপশি ব্রাজিলের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প, তাকেও বেআইনি ব্যাখ্যা করে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত এটাই এখনও পর্যন্ত আমেরিকার আরোপিত সর্বোচ্চ শুল্কের হার
শুল্কের হার (US lawmakers have introduced a resolution to terminate President Donald Trump’s tariffs )
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রথমে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরবর্তীতে ভারত রাশিয়া থেকে খনিজ তেল কেনা জারি রাখায় আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেন তিনি। ২৭ অগস্ট ভারতের রফতানিকৃত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হয়েছে (Donald Trump illegan tarrifs on Indian Comodity)। যার জেরে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে (India USA Trades) বড় ধাক্কা লাগে।

প্রস্তাবে উল্লেখিত ট্রাম্প এক বিশেষ জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন। মার্কিন সংসদ সদস্যেরা এই ক্ষমতাকেই সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ক্যারোলিনা প্রদেশ, দাবি সংসদ সদস্যেদের। উত্তর ক্যারোলিনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রচুর ভারতীয় বিনিয়োগ রয়েছে,দাবি সাংসদদের। তাঁদের কথায়, ‘‘ভারত খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সঙ্গী। বেআইনি এই শুল্কের প্রভাবে মার্কিন নাগরিকরা দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।’’
সংসদে কৃষ্ণমূর্তি (Krishnamurti) বলেন, ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক আসলে বাণিজ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করছে। এর জেরে মার্কিন কর্মচারীদের ক্ষতি হচ্ছে, ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে। শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে ভারত-আমেরিকা অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতার পথ আরও মজবুত হবে, মত কৃষ্ণমূর্তির।
