Mamata Banerjee
Bengal Liberty: ভোট কুশলী প্রতীক জৈনের কাছে এমন কোন রয়েছে, যার জন্য বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সমস্ত সরকারি কাজ ছেড়ে সারাদিন কাটালেন আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে? বস্তুত এই পুরো ঘটনায় ব্যয় হয়েছে সরকারি কোষাগারের অর্থ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যান্য সরকারি আধিকারিকদের একটি পূর্ণ কর্মদিবস শুধু মাত্র নষ্ট হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নামক দল এবং তাঁদের নথি রক্ষার উদ্দেশ্যে। অথচ ওই দিন তাঁদের সাধারণ মানুষের পরিষেবায় ব্যস্ত থাকার কথা ছিল—যার জন্যই তাঁদের বেতন দেওয়া হয় সরকারি কোষাগার থেকে।
উল্লেখ্য, ইডির হানা চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। সেখান থেকে বেরোনোর সময় তাঁর হাতে সবুজ রঙের একটি ফাইল দেখা যায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ তল্লাশি চলার মধ্যেই প্রতীকের বাড়িতে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata banerjee) । তাঁর কিছুক্ষণ আগেই সেখানে পৌঁছান সিপি মনোজ বর্মা। এমনকি সেখানে উপস্থিত ছিলেন DGP রাজীব কুমারও। এরপর মুখ্যমন্ত্রী যান আইপ্যাকের সল্টলেক অফিসে।
প্রশ্ন উঠছে,কী ছিল ওই সবুজ ফাইলে? (Mamata banerjee)
নথিপত্র হাতে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata banerjee)। তিনি বলেন,“অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যে ইডি আমার আইটি সেক্টরের অফিসে হানা দিয়েছে। আমাদের পার্টির সব তথ্য হার্ড ডিস্কে রয়েছে। সেখানে ক্যান্ডিডেট লিস্ট, পার্টির স্ট্র্যাটেজি ও পার্টির প্ল্যান সংরক্ষিত আছে।”
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা আরও বলেন,
“ওরা নিজের দেশকে সুরক্ষা দিতে পারে না। এখানে তো আমরাও পুলিশ পাঠাতে পারি বিজেপির অফিসে—তাহলে কী হবে? ওদের কি এত সাহস আছে? ইলেকশনের জন্য আমার পার্টির সব তথ্য নিয়ে যেতে চাইছে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। আমি সব নিয়ে এসেছি—হার্ড ডিস্ক আর ফোন নিয়ে এসেছি। ওরা সব কালেক্ট করছে।”
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন প্রশাসন ও সম্পদ কি দলীয় স্বার্থে একযোগে ব্যবহার করছে তৃনমুল? উল্লেখ্যযোগ বিষয় হল, তৃণমূলই আবার বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি।
