Modi vs Trump
Bengal Liberty: আসল লড়াইটা ঔদ্ধত্বের। আমেরিকা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যস্ত। যুদ্ধ লাগানো থেকে থামানো, সবেতেই নিজেদের অস্তিত্ব এবং মধ্যস্থতা খুঁজতে চান ট্রাম্প। আর এখান থেকেই যাবতীয় সমস্যার সূচনা। মার্কিন রাষ্ট্রপতি দাবি করছেন, ভারত-পাকিস্তান সংকটের অবসান তাঁর হস্তক্ষেপেই হয়েছে। পাল্টা মোদির জবাব, কোনও দেশ বা শক্তির মধ্যস্থতায় নয়, যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ভারত নিজে নিয়েছে। ব্যাস, এরপর থেকেই দু’দেশের সম্পর্কের আকাশে বিরাট কালো মেঘের আবির্ভাব ঘটল। এই আবহে নতুন করে জল্পনা দেখা গেল রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। জানা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যাবেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi vs Trump)।
মোদি-ট্রাম্প সাক্ষাৎ হচ্ছে না (Modi vs Trump)
চলতি মাস অর্থাৎ, ২৩-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সাউথ ব্লকের তরফে এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখার জন্য মোদির নাম রাখা হয়েছিল। কিন্তু, শেষ পাওয়া খবর মোতাবেক, সম্মেলনে মোদির জায়গায় বক্তব্য রাখবেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যাশা করেছিল, এই সম্মেলনে ট্রাম্প-মোদির সাক্ষাৎ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দু’দেশের সম্পর্ক নিয়েও বিস্তর আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু, তা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়াতেই কি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সম্মেলনে যাচ্ছেন না?
ট্রাম্পকে জব্দ করতে মোদির কমিউনিস্ট প্রেম (Modi vs Trump)
সম্প্রতি ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (SCO) সম্মেলনে মোদি–পুতিন–শি’র সাক্ষাৎ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫–এ তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত SCO সম্মেলনে ৩ রাষ্ট্রনেতার আলিঙ্গন, হাসির দৃশ্য দেখে আমেরিকার ঘুম উড়ে যায়। কারণ, এই সাক্ষাতের মধ্যে থেকে মার্কিন-বিরোধী রাজনৈতিক সংকেত এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি লুকিয়ে ছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল এই ঘটনাটিকে নব–বিশ্বব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

এই ঘটনার পর সংবাদ সংস্থা Reuters লিখছে― মোদি বলেন, “সবচেয়ে কঠিন সময়েও ভারত এবং রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।” একইসঙ্গে, পুতিন মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” আখ্যা দিয়ে দু’দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
পুতিন সোভিয়েতকালে KGB-র সদস্য ছিলেন। তাঁর মস্তিষ্কে এখনও কমিউনিস্ট বিচারধারা বর্তমান। শি নিজে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। এবার মতাদর্শগত দিক থেকে আমরা জানি, মোদি নিজে বামপন্থার বিপরীত মনস্ক এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে সেই শীতল যুদ্ধের আবহ থেকে আজ পর্যন্ত আমেরিকার মধ্যে ‘লালভীতি’ অব্যাহত। বিশেষ করে, বিশ্বজুড়ে নব্য-অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে কমিউনিস্ট ভয় ট্রাম্পকে আরও কোণঠাসা করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট SCO-র কয়েকটি দৃশ্য দেখে কিছুটা ভয় পেয়েছেন।
ট্রাম্প বলছেন মোদি ভালো (Modi vs Trump)
প্রথমত, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সম্মেলনে যাচ্ছেন না মোদি। অর্থাৎ, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনও সুযোগই নেই। পাল্টা, মোদি কূটনৈতিক দিক থেকে মার্কিন বিরোধী চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেছেন। একদিকে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ইতিমধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করে রেখেছে আমেরিকা। অপরদিকে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামার নেপথ্যে অযথা কৃতিত্ব নিতে নেমে পড়েছিলেন ট্রাম্প। সব মিলিয়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের মধ্যে বড় ফাঁটল তৈরি হয়।

এতকিছুর পর কি এবার ভুল বুঝতে পারছেন ট্রাম্পমশাই? হোয়াইট হাউসের এক সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত সম্পর্কে তাঁর অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন। তিনি নরেন্দ্র মোদীকে “একজন মহান প্রধানমন্ত্রী” বলে প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আমি সবসময় মোদির বন্ধু থাকব। তিনি একজন মহান প্রধানমন্ত্রী। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমার সঙ্গে মোদীর সম্পর্ক খুব ভালো।’’
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর মোদি এক্স-পোস্টের মাধ্যমে বলেন, ‘‘আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুভূতি এবং আমাদের সম্পর্কের ইতিবাচক মূল্যায়নকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করছি।’’
ট্রামের কথায় কার্যত স্পষ্ট হচ্ছে, ভারতের বিরুদ্ধে হেঁটে বিপদে পড়েছেন তিনি। এই অবস্থায় মাথানত না-করলে ভারত-রাশিয়া-চিন একত্রে আমেরিকার বিরুদ্ধে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পাথরের মতো শক্ত ট্রাম্প জলের আকার নিচ্ছে ক্রমে! আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাই বড় খবর।
