Bangladesh Awami League Banned 2026
Bengal Liberty, লেখক নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক:
প্রলাপ ও এনজিওর অর্থ ভাগাভাগির সমীকরণ
আবারও অর্বাচীন বালকের মতো প্রলাপ। বিদেশি এনজিওর টাকা ভাগাভাগি করে খাওয়ার পায়তারা! প্রথমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিয়ে লাগাতার দুই মাস ধরে একটানা মিথ্যা বলানো হলো—বিগত শেখ হাসিনা সরকার(Bangladesh Political Tension) নাকি কোনো ধরনের টিকা দেয়নি, তাই এখন শিশু মারা যাচ্ছে।
ব্যর্থতা ঢাকতে দায় চাপানোর রাজনীতি
কিন্তু জনগণ যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সমালোচনা শুরু করল, তখন সে অল্প অল্প সুদখোর ইউনূসের নাম নেওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু যখন দেখল স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কাজ হচ্ছে না, তখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই চলে আসছে আবার সেই অর্বাচীন মিথ্যা রোগের ঝুড়ি নিয়ে সুদখোর ইউনূসকে বাঁচাতে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ভুলেও তারা মাঝখানের দুই বছরের শাসক ইউনূসের নাম নেয়নি। যেন তিনি চাঁদ থেকে নেমে এসেছিলেন, আর তার সময়ের কোনো দায়-দায়িত্বই নেই!

মজুদ ও উন্নয়নের কৃতিত্ব নিয়ে নির্লজ্জতা(Bangladesh Political Tension)
এদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, হাসিনা সরকার সব কিনে রেখে যায়নি কেন? অথচ দুই বছর আগে হাসিনার পতন হলেও তার করা মজুদে দেশ চলছে—যেমন চাল, ডাল, ওষুধ, সেলাইন, কীটনাশক সবকিছু হাসিনার মজুদ করা, যা বারবার ধরা পড়ছে। কিন্তু এরা কতটা নির্লজ্জ! হাসিনার নাম ওখানে কালি দিয়ে মুছে তারা নিজেদের নামে প্রচার করতেছে। অথচ গত দুই বছরে এরা কোনো একটি কিছু বানাতে পারেনি।
ইউনূস ও বিএনপির গোপন আঁতাত?(Bangladesh Political Tension)
এখন মূর্খগুলো বলছে টিকা কেন মজুদ করেনি দুই বছর আগে। কিন্তু মাঝখানে দুই বছর তথাকথিত সরকার কী করল? এগুলো তাদের করার দায়িত্ব ছিল না? কিন্তু এরা ইউনূসের নাম নেয় না কেন? কারণ খুবই সহজ—ইউনূসের ক্ষমতার অন্যতম স্টেকহোল্ডার বিএনপি নিজেও। ইউনূসের ব্যর্থতা স্বীকার করলে নিজেদের ব্যর্থতাও প্রকাশ হয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও বর্তমানের বেহাল দশা

বাংলাদেশ জানে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে টিকার অভাব ছিল না। নিয়মিত ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি দেশের আনাচে-কানাচে টিকার সহজলভ্যতা ছিল। হাম-পোলিওর মতো বহু রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। বাংলাদেশের Expanded Programme on Immunization (EPI) বিশ্বে সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। এই সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা ও সম্মাননা এসেছে।
টিকা আমদানিতে স্থবিরতা ও এনজিও-বাণিজ্যের ছক
অথচ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে একটি টিকাও আমদানি করা হয়নি—এমন অভিযোগ এখন মানুষের মুখে মুখে। প্রশ্ন উঠেছে, কোনো মহামারি ছড়িয়ে পড়লে বিদেশি এনজিওর মাধ্যমে টিকা কর্মসূচি চালিয়ে অর্থায়নের ভাগ-বাটোয়ারার হিসাব ছিল কি না! আজ শত শত শিশুর মৃত্যুর পেছনে সেই গাফিলতির দায় কে নেবে?
তারেক রহমানের বক্তব্য ও জনগণের প্রশ্ন(Bangladesh Political Tension)
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র টিকা সহায়তার কথা বলেছে। কিন্তু শর্ত—এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ, কারণ স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট। এখন প্রশ্ন হলো, এই বিদেশি অর্থায়নের টাকা কারা খাবে? ইউনূসের এনজিও, তার উপদেষ্টা গোষ্ঠী, আর তারেক রহমানের সরকার—এই সমীকরণ কি মানুষ বুঝে না? নিজেদের টাকা হজমের পথ পরিষ্কার করতে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এটাই তারেক রহমানের আজকের মাতালের প্রলাপ।

তথ্য ও উপাত্তের আলোকে বাস্তবতা বিশ্লেষণ(Bangladesh Political Tension)
বাস্তবতা ১: টিকাদান কর্মসূচি ধ্বংসের দায় কার?
বাংলাদেশের সবচেয়ে গর্বের জায়গাগুলোর একটি ছিল টিকাদান কর্মসূচি। সেটিকে ধ্বংস করেছে ইউনূস। শত শত শিশু মারা যাচ্ছে, অথচ তারেক জিয়া তাকে এককভাবে দোষারোপ করতে ভয় পাচ্ছে। নাকি লন্ডনের কোনো চুক্তি অনুযায়ী সমালোচনা থেকে বিরত আছে?
বাস্তবতা ২: প্রশাসনিক অস্থিরতা ও সমন্বয়হীনতা
২০২৪-২৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেওয়ার পর প্রশাসনিক অস্থিরতা, সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতি ও স্বাস্থ্যখাতে সমন্বয়হীনতার কারণে টিকাদান কাভারেজ ভয়াবহভাবে কমে যায়। এই দায় এড়িয়ে আগের সরকারকে দোষারোপ করা রাজনৈতিক সুবিধাবাদের কৌশল।
বাস্তবতা ৩: স্বাস্থ্য সংস্কারের নামে বাগাড়ম্বর
আজ তারেক রহমান NHS মডেল ও ৫% জিডিপি বরাদ্দের কথা বলছে। এগুলো নতুন কোনো ধারণা নয়। আওয়ামী লীগ সরকার স্বাস্থ্যখাতে বাস্তব বিনিয়োগ করেছে। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে স্বাস্থ্যখাত ছিল লুটপাটের কেন্দ্র।
বাস্তবতা ৪: অর্থনৈতিক সংকট ও অদক্ষতা
১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা বলা হলেও অর্থ কোথায়? তিন মাসে ব্যাংক ঋণ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। জিডিপি নেমেছে সাড়ে তিন শতাংশে। এই ধাক্কা বিএনপির মতো অনভিজ্ঞ সরকার সামলাতে পারবে কি না, বিশেষজ্ঞদেরই সন্দেহ।
ইতিহাস বিকৃতি ও শিশুদের মৃত্যুর দায়(Bangladesh Political Tension)
যে আওয়ামী লীগ সরকার টিকাদান কাঠামো দাঁড় করিয়েছে, তাদের ব্যর্থ দেখানো ইতিহাস বিকৃতি। শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘ ৯৮% টিকা কাভারেজ অর্জনের জন্য পুরস্কৃত করেছিল। আর একটি কথা মনে রাখবেন—যেসব শিশু এখন মারা যাচ্ছে, তাদের বয়স ৬ মাস থেকে ১১ মাস। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার সময় তারা জন্মই নেয়নি। তাহলে হাসিনা গিয়ে তাদের টিকা দেবে কীভাবে?
জনগণের আদালতই শেষ কথা(Bangladesh Political Tension)
সুদখোর ইউনূস বাংলাদেশের শাসন ছিনতাই করে দেশ চালিয়েছে। লন্ডনে কী চুক্তি হয়েছিল—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণই বিবেচনা করবে আওয়ামী লীগের শাসনামল কেমন ছিল আর ইউনূস বা বিএনপির শাসন কেমন হচ্ছে। জনগণই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেবে।
আরও পড়ুন:
ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে বড় চমক! তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো !
