Kunal Ghosh
Bengal Liberty, ১৩ জুন :
কুণালের কণ্ঠ জুড়ে তাপসের ভুয়সী প্রশংসা! একদিকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী সাংসদদের দলের নাম লেখানো প্রসঙ্গে বেনজির আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তেমনই অন্যদিকে প্রশংসার ফুলঝড়ি ঝড়েছে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় প্রসঙ্গে। আবার উল্টো দিকে কেউ থাকুক, ছাই না থাকুক মমতার পাশে তিনি আছেন এই আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন এখনও পর্যন্ত। তাঁর এই ত্রিমুখী মন্তব্যে বলাই বাহুল্য, ঠান্ডা মাথার খিলাড়ি। পরিস্থিতি বুঝেই ব্যবস্থা নেবেন কুণাল। এক নৌকায় চেপে বৈতরণী পার হওয়ার পরিস্থিতি নেই বুঝেই দু নৌকায় পা রেখে সমান তালে চলছেন কুণাল। মমতা যদি কংগ্রেসের বি টিম হয় সেখানে সটান বিজেপিতে ঢোকার রাস্তা পরিষ্কার রেখেছেন আর যদি মমতা নিজের তৃণমূলকে বাঁচিয়ে রাখে তাহলে মনে প্রাণে দিদির সৈনিক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ (Kunal Ghosh)
তাপস-কুণাল ও-সুদীপ এই সম্পর্কটা বরাবরই একটু মাখোমাখো ছিল। আর হয়তো থাকবে না। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার শতাব্দী রায়ের সাথে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নাম লেখান। তারপরই ক্ষেপে ওঠেন কুণাল ঘোষ। উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। কুণাল বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া মানে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। শুধু ওমন একজন পরচুল ওয়ালা লোক নয়, তার সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার পাওয়া যাবে। ফলে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। উনি একাধিক বার দল পরিবর্তন করেছেন। তবে, এই বয়সে এসে অবাঞ্ছিত।” তাঁর আক্রমণ থেকে বাদ যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্য-পাওনা, এই ধরনের জিনিসপত্রকে মাথায় তুলে রেখেছিলেন।”

তাপস রায়ের ভুরিভুরি প্রশংসা (Kunal Ghosh)
কুণাল ঘোষ বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে ওইদিনই তাপস রায় প্রসঙ্গে একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন। ফের এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগড়ে দিতে গিয়ে তিনি পুরোনো কাসুন্দি ঘেঁটে বলেন, ” তাপস রায়কে চলে যেতে হল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। অথচ তাপস রায় দক্ষ নেতা। উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেঁদে-কেঁদে বলছেন আমায় উত্তর কলকাতার সভাপতি আবার করে দাও।” পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মানুষ হিসাবে ভাল তাপস রায়। আমি বলেছিলাম, তখন আমায় সাসপেন্ড করে দিয়েছিল। আজ দেখুন কে ভাল কে খারাপ। দুদিন আগেও ফোন করে বলেছি মমতার বাড়িতে সিআইডি গেছে তুমি কোথায়?” অপরদিকে শপথ নিয়েই একটি লম্বা ফেসবুক পোস্টে কুণাল ঘোষ লিখেছিলেন, “তাপসদা কে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য।” তিনি লেখেন, “তাপসদা, সজল ঘোষদের রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তাঁরা বিধায়ক।”
একদিকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সংসদ এবং বিধায়কদের কঠোর সমালোচনা করে নিজেকে দিদির অনুগত প্রমাণ করছেন কুণাল ঘোষ। মমতার বাড়িতে সিআইডি গেলে পাহারাদার হিসেবেও পৌঁছে যাচ্ছেন। আবার সর্বদা নিজেকে বর্তমান মন্ত্রী তাপস রায়ের ন্যাওটাও বোঝাচ্ছেন। কুণাল ঘোষ কি তাহলে সব পথ খোলা রাখছেন। পরিস্থিতি বুঝে ঘোল খাইয়ে গোল দেবেন?



