Abhishek PA Sumit Roy
Bengal Liberty, ১৩ জুন :
ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ফিসফাস ছিল তাঁর নাম নিয়ে। এবার সেই সুমিত রায়কে ঘিরেই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন স্থানীয় বাসিন্দারা (Abhishek PA Sumit Roy)। অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পরিচয়কে ঢাল করে এলাকায় কার্যত অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এমনকি অভিষেকের কাছে পৌঁছাতে গেলেও আগে সুমিত দরবারে হাজিরা দিতে হত বলে দাবি স্থানীয়দের। সাধারণ মানুষের গাড়ি পর্যন্ত তাঁদের বাড়ির সামনে দাঁড়ানোর সাহস পেত না, আর বড় বড় তৃণমূল নেতারাও নাকি চলতেন তাঁর ইশারায় এমন অভিযোগে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। ভোররাতে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানোর পর থেকেই বিলাসবহুল জীবনযাপন ও প্রভাব বিস্তারের এই অভিযোগকে ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন (Abhishek PA Sumit Roy)।

সুমিতকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ (Abhishek PA Sumit Roy)
সুমিত রায়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার মাঝেই সামনে আসছে তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হওয়ার সুবাদে এলাকায় কার্যত অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিলেন সুমিত। অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষের গাড়ি দাঁড় করানোরও সাহস ছিল না কারও। শুধু তাই নয়, প্রায় প্রতিদিনই বিধায়ক, সাংসদ এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের যাতায়াত লেগে থাকত সেখানে। স্থানীয়দের আরও দাবি, এলাকার একটি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সমাজসেবার আড়ালে দুর্গাপুজোর বিশাল আয়োজন, সর্বত্রই ছিল সুমিতের প্রভাব। একইসঙ্গে উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগও। অভিযোগ, সদস্যপিছু নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষকে চাপ দেওয়া হতো, আর আপত্তি জানালেই দেখানো হতো ভয়ভীতি।

সুমিতের খোঁজে তল্লাশি কালীঘাটে (Abhishek PA Sumit Roy)
জমি জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়ের খোঁজে শনিবার কাকভোরে কালীঘাটে অভিযান চালায় শালবনী থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, সুমিতের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল অভিষেকের বাড়িতেই। সেই সূত্র ধরেই রাত প্রায় ৩টে নাগাদ পটুয়াপাড়ায় পৌঁছয় তদন্তকারী দল। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না মেলায় বাড়ির বাইরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। গোটা বাড়ি তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি। সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর থেকেই সুমিত রায়কে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।



