Suvendu Adhikari At Bhagabanpur
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সনাতন সংস্কৃতির ওপর আঘাতের অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন স্বামী সূর্যনন্দ মহারাজ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার সেই আহত সন্ন্যাসীকে দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari At Bhagabanpur)। সেখান থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও শুভেন্দুর আক্রমণ(Suvendu Adhikari At Bhagabanpur)
ভগবানপুরের এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, একদল মদ্যপ যুবক প্রকাশ্য দিবালোকে স্বামী সূর্যনন্দ মহারাজের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাফ জানিয়ে দেন, “সন্ন্যাসীকে যারা মেরেছে তারা প্রত্যেকেই পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের লোক। তারা প্রত্যেকে মদ্যপ অবস্থায় ছিল।”
বিরোধী দলনেতার নিশানায় ছিল রাজ্য সরকারের আবগারি নীতি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা নিতে এবং সমাজকে রসাতলে পাঠাতে রাজ্যে কুড়ি হাজার মদের দোকান খুলে দিয়েছে। তাঁর মতে, “এই কারণেই কুড়ি হাজার মদের দোকান মাননীয়া খুলে দিয়েছেন, যাতে অপরাধীরা নেশার ঘোরে এই ধরণের ঘৃণ্য কাজ করতে পারে।”
“হিন্দুত্বকে কালচারাল প্রোগ্রাম মনে করে শাসকদল”(Suvendu Adhikari At Bhagabanpur)
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সরাসরি তৃণমূলের ‘ছদ্ম-ধর্ম নিরপেক্ষতা’ নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, শাসকদল এ রাজ্যে হিন্দুত্ব বা সনাতন ধর্মকে কোনো আধ্যাত্মিক বিষয় বলে মনে করে না; বরং একে স্রেফ একটি ‘কালচারাল প্রোগ্রাম’ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্তরে নামিয়ে এনেছে। তাঁর কথায় ফুটে ওঠে এক গভীর ক্ষোভ— “শাসক দল এই রাজ্যে হিন্দুত্বকে কালচারাল প্রোগ্রাম মনে করে। মাথায় হিজাব পরে পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা সনাতন সংস্কৃতির অপমান।”
মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ধরনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন যে, একদিকে হিন্দু ধর্মের পিণ্ডদানের সময় বা পিতৃপক্ষে উৎসবের মেজাজে থাকা এবং অন্যদিকে বিশেষ সম্প্রদায়ের পোশাক পরে ধর্মীয় ভাবাবেগে সুড়সুড়ি দেওয়া আসলে দ্বিচারিতা।

আক্রমণকারীদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন(Suvendu Adhikari At Bhagabanpur)
আক্রান্ত সন্ন্যাসীর পরিচয় এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানান যে, যারা এই কাজ করেছে তারা নামেই হিন্দু। তিনি বলেন, “যারা করেছে তারা প্রত্যেকেই হিন্দু তৃণমূল নেতা। কিন্তু যারা একজন সন্ন্যাসীকে আক্রমণ করতে পারে, তাদেরকে আমি হিন্দু বলে স্বীকার করি না।”
বিরোধী দলনেতার দাবি, এরা আসলে কোনো ধর্মের তোয়াক্কা করে না। তাঁর মতে, এরা মূলত “নাস্তিক”। তিনি আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, “সময় এলে এরা সুযোগ বুঝে ধর্ম পরিবর্তনও করবে। এদের কোনো নীতি বা নৈতিকতা নেই।”
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের ভূমিকা(Suvendu Adhikari At Bhagabanpur)
শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই তৃণমূলী ‘জেহাদি’ মনোভাবাপন্ন কর্মীরা আজ সাধু-সন্ন্যাসীদের ওপর হাত তুলতে সাহস পাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সনাতনী সমাজের ওপর এই ধরণের আঘাত আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না।
হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় তিনি স্বামী সূর্যনন্দ মহারাজের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং জানান যে, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে তারা আইনি ও রাজনৈতিক— উভয় লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ভগবানপুরের এই ঘটনাটি কেবল একটি সংঘর্ষ নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মেরুকরণের এক প্রতিচ্ছবি। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হিন্দুত্ববাদী অবস্থান এবং অন্যদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণ ও অরাজকতার অভিযোগ— এই দ্বন্দ্বে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

