Alcohol ban
Bengal liberty desk,২১ এপ্রিল, কলকাতা:
ভোট আসছে সে তো ভালো কথা, কিন্তু তাই বলে টানা চার দিন গলাটা একদম শুকনো থাকবে? খাস কলকাতায় এখন এটাই সবচেয়ে বড় হাহাকার Alcohol ban। সোমবার রাত থেকেই রাজ্যের সমস্ত মদের দোকানের ঝাঁপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথায় বাজ পড়েছে সেই সব মানুষদের, যাঁদের কাছে সন্ধ্যাবেলার এক পেগ জল শুধু নেশা নয়, বরং রোজকারের অভ্যেস। প্রথম দফার ভোট ২৩ তারিখ, কিন্তু ২০ তারিখ থেকেই ‘ড্রাই ডে’ শুরু হয়ে যাওয়ায় সুরাপ্রেমীরা এখন ভাবছেন— “এই ক’দিন কাটবে কী করে?”

সুরাপ্রেমীদের হাহাকার: Alcohol ban
যাঁরা রেগুলার ড্রিঙ্ক করেন, তাঁদের জন্য এই চার দিন যেন চার বছরের সমান। সোমবার সন্ধের পর থেকেই শহরের মোড়ে মোড়ে মদের দোকানের সামনে ভিড় জমেছিল। কিন্তু দোকানের দরজায় তালা আর পুলিশের কড়া নজরদারি দেখে অনেকেরই মুখ চুন।তবে সবথেকে বেশি ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনার মতো এলাকাগুলোতে, কারণ এখানকার ভোট দ্বিতীয় দফায় হলেও প্রথম দফার কারণেই অকাল ‘খরা’ শুরু হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ তো দোকানে গিয়ে বলছেন, “আগে বললে না হয় কালকেই কয়েকটা বোতল বেশি করে নিয়ে রাখতাম!” আসলে ভোটের নিয়ম এবার কড়া হয়েছে। আগে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে মদ বন্ধ হতো, এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯৬ ঘণ্টা। অর্থাৎ ভোটের চার দিন আগেই সুরাপ্রেমীদের ‘বনবাসে’ পাঠিয়ে দিয়েছে আবগারি দফতর।
কেন এই কড়াকড়ি?
পুলিশ ও আবগারি দফতরের নজরদারি বলছে, ভোটের সময় মদের চাহিদা হঠাৎ করে হু হু করে বেড়ে যায়। ভোটারদের প্রভাবিত করতে যাতে বেআইনিভাবে মদ ব্যবহার না হয়, তার জন্যই এই আগাম সতর্কতা। শুধু দোকান নয়, পানশালা বা রেস্তোরাঁতেও মদ দেওয়া নিষিদ্ধ। এমনকি মজুত করা মদের ওপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখুন:
প্রথম দফার জন্য ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত দোকান বন্ধ। আবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ২৫ এপ্রিল সন্ধে থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তালা থাকবে দোকানে। আর ৪ মে গণনার দিন তো এমনিতেই ‘ড্রাই ডে’। সব মিলিয়ে যারা রোজ নিয়ম করে একটু আধটু চুমুক দেন, তাঁদের পকেটে টাকা থাকলেও আগামী কয়েকদিন ‘হা পিত্যেশ’ করে কাটানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
