Finance Minister
Bengal Liberty:
রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থাকে নতুন করে প্রাণ দিতে হাল ধরলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত (Finance Minister)। নতুন দায়িত্বে বহাল হয়েই থিতিয়ে যাওয়া রাজ্য অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে মতামত জ্ঞাপন করলেন। আসন্ন বাজেটের সময় হাতে মাত্র আট মাস। তার মধ্যেই কোন কোন পর্যায়ে জোর দিলে অর্থাগার তুলনায় আশানুরূপ জায়গায় ফেরানো যেতে পারে, তার এক পটচিত্র তুলে ধরলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।

রাজ্য জুড়ে আর্থিক সংকট Finance Minister
তৃণমূল সরকারের রাজত্বে প্রায় ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রাজ্যের ওপর। বামফ্রন্ট সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১.৯০ লক্ষ কোটি টাকার কিছু বেশি যা পরবর্তী দেড় দশকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৬২ হাজার কোটি। ২০২৬ – ‘২৭ অর্থবছর শেষ করবে প্রায় ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে। এই বিপুল পরিমাণ দেনা নিয়ে বাংলা কখনই আর্থিক দিক দিয়ে স্বচ্ছল নয়। তবে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো তৈরী করতে বিশেষ ভাবে নজরদারি করেছেন অর্থমন্ত্রী।

প্রাক্তন শাসকের সময় রাজ্যের উন্নয়নের টাকা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ জানিয়েছেন স্বপন দাসগুপ্ত। মিটিং, মিছিল, ত্রিফলা লাইট, একাধিক মূর্তি তৈরী করে অযথা টাকা নষ্ট করেছিলেন তৃণমূল সরকার। কেন্দ্র থেকে উন্নয়নের খাতে বরাদ্দ হলেও সেই টাকা প্রকল্পের কাজে নষ্ট হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন। বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ” নির্বাচনের সময় দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে বার্ধক্য ভাতা ও অন্নপূর্ণা ভাতা বৃদ্ধি করা হবে – সেগুলি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” পূর্বেও আগের সরকার এই ভাতা জনসাধারণকে দিয়েছিল কোন বিচার বিশ্লেষণ না করেই। ফলে লিঙ্গ নির্বেশেষে, অনুপ্রবেশকারী সহ সকলেই সরকারি টাকা ভোগ করেছে।
আসন্ন বাজেট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মূলত আট মাসের ওপর সংক্ষিপ্ত বাজেট পেশ হবে। রাজ্যের অন্যতম সমস্যা হল বাজেট। তবে বাজেট সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের অধীনস্থ নয়। ফলত এই ব্যাপারে অর্থনৈতিক নীতি রাজ্য সরকার নির্ধারণ করতে পারে না বলে দাবি স্বপনের।
মূল আয়ের স্তর মদ পেট্রোল
রাজ্যের মূল আয়ের বড় উৎস মদ, পেট্রল হলেও সেই আয়কে বর্ধিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ঘাড়তি পূরণের দিকে নজরদারি করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
দীর্ঘবছর ধরে রাজস্ব আদায়ে গাফিলতি ছিল বলে দাবি রাজ্য অর্থমন্ত্রী স্বপনের। প্রাক্তন সরকার প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায় না করার দরুণ অর্থনীতিতে ব্যাপক ভাবে ভাটা পড়েছে । কোষাগারের সেই লিকেজগুলি দ্রুত বন্ধের প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বপন। তবে, সকল বিষয়েই গাফিলতি খতিয়ে দেখবে বর্তমান রাজ্য সরকার। সঠিক উপায়ে রেভিনিউ বা সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় করাই দফতরের সকলকের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দেব। তবে, ভেঙে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ, সেই ব্যাপারে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী।

