FIFA World Cup 2026
Bengal Liberty, ১০ জুন ২০২৬: বিশ্বকাপ খেলতে এসে চরম হেনস্থার শিকার হতে হল সেনেগাল এবং উজ়বেকিস্তানের ফুটবলারদের (FIFA World Cup 2026)। বিমান থেকে নামতেই রানওয়ের টারম্যাকে আটকে দেওয়া হয় সেনেগালের ফুটবলারদের। বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকার আগেই প্রকাশ্যেই তাঁদের দেহ তল্লাশি করেন আমেরিকার নিরাপত্তাকর্মীরা। খুলে ফেলা হয় সমস্ত ব্যাগপত্র।
প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে উজ়বেকিস্তান দলের সঙ্গেও। নিউ ইয়র্কের আইকান স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে যাওয়ার সময় কড়া তল্লাশির মুখে পড়েন উজবেক ফুটবলাররা। শুধু নিরাপত্তাকর্মীরাই নন, তাঁদের ব্যাগ ও শরীর তল্লাশিতে ব্যবহার করা হয় মাদক সন্ধানী স্নিফার ডগ। ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে এমন আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা, রেফারিকে ফেরত পাঠাল আমেরিকা (FIFA World Cup 2026)
বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। আমেরিকায় পা রাখতেই দীর্ঘ জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে। এখানেই শেষ নয়, ইরাক দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকে টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দপ্তর। এমনকি, এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারি, সেনেগালের ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে তো বিমানবন্দর থেকেই দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কড়া ভিসা নীতি: প্রশ্নের মুখে আমেরিকার ‘বর্জনমূলক’ আচরণ (FIFA World Cup 2026)
শুধু ফুটবলার-রা নন, ট্রাম্প প্রশাসনের কোপ পড়েছে বিশ্বজুড়ে থাকা ফুটবলপ্রেমী এবং সাংবাদিকদের ওপরও। বহু দেশের নাগরিকদের সরাসরি ভিসা দেওয়া হয়নি। আবার যাঁদের দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রয়েছে ‘সিঙ্গেল এন্ট্রি’র কড়া নিয়ম। অর্থাৎ, আমেরিকা থেকে খেলা দেখতে কেউ যদি প্রতিবেশী দেশ কানাডা বা মেক্সিকোয় যান, তবে তিনি আর আমেরিকায় ফিরতে পারবেন না। বিশ্বকাপের মতো একটি আসরে আমেরিকার এমন বৈষম্যমূলক এবং বর্জনমূলক নীতি নিয়ে ইতিমিধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

রহস্যজনক নীরবতা ফিফার, ক্ষোভ বাড়ছে ফুটবল বিশ্বে (FIFA World Cup 2026)
খেলোয়াড়দের সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফুটবলপ্রেমীদের সবথেকে বড় ক্ষোভ বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ফিফা’র (FIFA) ওপর। ফুটবলার-রা এভাবে হেনস্থার শিকার হওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কোনও কড়া পদক্ষেপ বা বিবৃতি দেয়নি ফিফা কর্তৃপক্ষ। আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার মতো রাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে ফুটবল বিশ্বে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই বিতর্ক ফিফার ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

