BJP rise West Bengal
Bengal Liberty, কলকাতা ১৫ মার্চ ২০২৬ :
২০০৯ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১৭ বছরে পশ্চিমবঙ্গে যে ক’টি নির্বাচন হয়েছে, প্রায় সব জায়গাতেই একই ফল দেখা গেছে (BJP rise West Bengal)। আসন কমতে কমতে একসময় শূন্যেতে এসে ঠেকেছে একদা রাজত্ব করা দল সিপিএম। ২০০৯ লোকসভা নির্বাচন, তারপর ২০১১ বিধানসভা—তারপর থেকে ক্রমশই জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পার্টি যেন ফ্লেক্স বোর্ডে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালের পর থেকে লিড নেওয়া তো দূরের কথা, একটি আসনেও বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি।
মাঠে-ঘাটে, ময়দানে ব্রিগেড হয়েছে, সভা হয়েছে, পুলিশের লাঠির আঘাতও সহ্য করতে হয়েছে, রক্তক্ষরণও হয়েছে—কিন্তু তার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়েনি।

বামের ভোট রামের ঘরে
এর মধ্যেই বারবার শোনা গেছে একটি কথা—“বামের ভোট রামের ঘরে যাচ্ছে।” এবার কি সেই কথাতেই শিলমোহর পড়ল?
শিলিগুড়ির এক কর্মসূচিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সামনেই প্রবীণ বাম নেতা এবং একসময়কার জনপ্রিয় মুখ অশোক ভট্টাচার্য কার্যত স্বীকার করে নিলেন যে ভোটবাক্সে সিপিএমের ভোট বিজেপির দিকে যাচ্ছে। অশোক ভট্টাচার্যের দাবি – “গত তিনটি নির্বাচনে সিপিএমের সমর্থকরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, তাই তাদের আসন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা খুব দ্রুত আটকাতে হবে।”
হঠাৎ এতদিন পর কেন?
এই মুহূর্তে রাজ্যে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে ভোটের দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত হতে চলেছে। ভোটের ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।
মানুষের মন থেকে সিপিএম ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছে। তরুণ পার্টি গড়ে তোলার চেষ্টাও খুব একটা ফল দেয়নি।
বামেদের গড় বলে পরিচিত দমদম ও যাদবপুরেও বামরা শেষ স্থানে নেমে এসেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারার কারণে দল ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে।
নতুন নেতৃত্ব উঠে না আসাও বড় কারণ। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সুভাষ চক্রবর্তীর পর আর এমন কোনো নেতা কি উঠে এসেছেন যিনি মানুষের ভরসা জাগাতে পেরেছেন? আন্দোলনে ঝাঁঝ তৈরী করতে না পারা সমর্থকদের গুরুত্ব না দেওয়া
তাই নিজেদের ব্যর্থতা কি বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে ময়দান ছাড়ার চেষ্টা করছেন সেলিম ও অশোকরা? এই নতুন যুক্তি খাড়া করে কি ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন দেখা যাবে, নাকি শূন্য ছিল, শূন্যই থাকবে বামফ্রন্ট—তার উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
