WB Priest-Muezzin Allowance Hike
Bengal Liberty Desk, ১৫ মার্চ: সাধারণ মানুষের করের টাকায় খয়রাতি আর ভোটব্যাঙ্ক পোক্ত করার পুরনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। একদিকে যখন রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী বছরের পর বছর ডিএ-র জন্য আন্দোলন করছেন, তখন ফের পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫০০ টাকা ভাতা বাড়িয়ে এখন তাদের মোট ২,০০০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে (Mamata Purohit-Imam Bhata Hike)।
সুপ্রিম কোর্ট অনেকদিন আগেই রায়ে জানিয়েছিল, ডিএ ন্যায্য অধিকার। রাজ্য সরকারকে ডিএ দিতেই হবে এবং সরকারি কর্মচারীরা ডিএ অবশ্যই পাবেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই তালবাহানা শুরু করে শাসকদল। ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সময়ও চেয়েছিল মমতার সরকার। রাজ্য সরকারের দাবি ছিল—
“পর্যাপ্ত ডিএ দেওয়ার জন্য অন্তত ৬ মাস সময় দেওয়া হোক।” তবে তাতে বিশেষ কোনো লাভ হয়নি। বরং শাসকদলকে ধমক খেতে হয়ে।
I am pleased to announce an increase of ₹500 in the monthly honorariums extended to our purohits and muezzins, whose service sustains the spiritual and social life of our communities. With this revision, they will now receive ₹2,000 per month.
At the same time, all fresh…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 15, 2026
অভিযোগ উঠছে, রাজ্যের বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা না করে কেবল তোষণ এবং আধ্যাত্মিক রাজনীতির দোহাই দিয়ে এই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন সমস্ত আবেদনও এক ঝটকায় মঞ্জুর করেছে সরকার। বহু দিন ধরে স্থগিত থাকার পরেও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই আসল দাবার চাল মুখ্যমন্ত্রীর। শিল্পের অভাব ও বেকারত্ব যখন চরমে, তখন এই ধরণের অনুদান সামাজিক বিভেদ বাড়িয়ে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থই পূরণ করছে (Mamata Purohit-Imam Bhata Hike)।
ডিএ নিয়ে তীব্র তালবাহানা :
ডিএ দেওয়ার বেলায় ভাঁড়ার শূন্য, অথচ দুর্গাপূজায় লক্ষ লক্ষ টাকার অনুদান, খেলা ও মেলায় টাকা খরচ— এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও বহু সরকারি কর্মচারী। দীর্ঘদিন ধরে চলে তালবাহানা, মিটিং-মিছিল— নিজের ন্যায্য হকের টাকা চাইতে গিয়ে জুটেছে পুলিশের মার, লাঠিচার্জ, একাধিক এফআইআর। তবুও লড়াই চালিয়ে গেছেন সরকারি কর্মচারীরা। গত বৃহস্পতিবার একাধিক সরকারি কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। তারপরেই শাসকদলের টনক নড়ে।
নির্বাচন নিয়ে মমতার সরকার যে চাপে রয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যে ডিএ-র টাকা অনেক আগেই স্বাভাবিকভাবে মিটিয়ে দেওয়া যেত, তা দিতে গিয়ে নিজেই সমস্যায় জর্জরিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
