WB political controversy
Bengal Liberty, কলকাতা :
বাজলো ভোটের নির্ঘন্ট, ঠিক তার আগেই দাবার গুটি পাল্টে দিলো রাজ্যের শাসক দল (WB political controversy)। রাজনৈতিক অঙ্গনে তরজা তুঙ্গে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তার এক্স হ্যান্ডেলে ডিএ বকেয়া প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের ঘোষণাকে চরম কটাক্ষ করেছেন, অন্যদিকে পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘিরেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
.
What a JOKE !
Mamata Banerjee suddenly remembers lakhs of employees, pensioners, teachers and non-teaching staff just MINUTES before the Election Commission announces poll dates?
ROPA 2009 DA arrears “from March 2026 onwards”? After years of looting the state treasury and… https://t.co/RIoiiP8Sgt
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) March 15, 2026
মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ বিরোধী দলনেতার WB political controversy
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে তীব্র নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগে হঠাৎ করেই লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের কথা মনে পড়েছে রাজ্য সরকারের। ROPA 2009 অনুযায়ী, ডিএ বকেয়া মার্চ ২০২৬ থেকে মেটানোর ঘোষণাকে তিনি “নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের কৌশল” বলে কটাক্ষ করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “বছরের পর বছর রাজ্যের কর্মচারীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন ভোটের আগে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে সেই টাকা আদৌ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এটি মানুষের মন ভোলানোর একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ।” আরেকটি সিদ্ধান্ত ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা নতুন আবেদনগুলিও অনুমোদন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

কিংকর অধিকারীর এই বিষয়ে মতামত
একইসঙ্গে, ডিএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারী সংগঠনগুলির তরফেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই বিলম্বিত বোধোদয় আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। কোটি কোটি টাকা খরচ করে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করে কোনও সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না, বর্তমান পরিস্থিতিই তার প্রমাণ।”
কিংকর অধিকারী দাবি জানিয়েছেন,” রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টে করা এমএ ফাইল ও রিভিউ পিটিশন প্রত্যাহার করে সপ্তম পে কমিশনের গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে। পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মীদের নিয়মিতকরণসহ অন্যান্য দাবিও মেনে নেওয়া হোক।” আন্দোলনে যুক্ত সমস্ত মামলাকারী সংগঠন এবং কর্মচারীদেরও অভিনন্দন জানিয়েছেন কিংকর অধিকারী।
রাজ্যের বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা না করে কেবল তোষণ এবং আধ্যাত্মিক রাজনীতির দোহাই দিয়ে এই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তীব্র সমালোচনায় সবর হয়েছেন বিরোধীরা। ভোট ঘোষণার মুখে ডিএ, ভাতা বৃদ্ধি এবং কর্মচারী সংগঠনের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্যের এই সিদ্ধান্তগুলি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
