Misuse of Government Property
Bengal Liberty, Kolkata:
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সাথে সাথেই দেশজুড়ে জারি হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি(Misuse of Government Property) । কিন্তু বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে সেই বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি ভবনে শাসকদলের প্রার্থীর প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কী? (Misuse of Government Property)
বিজেপির অভিযোগ, বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জনগেট সংলগ্ন পুরসভার একটি শৌচালয় ভবনের ছাদে থাকা বিশালাকার জায়েন্ট স্ক্রিনে তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসের সমর্থনে প্রচার চালানো হচ্ছে। শুধুমাত্র কার্জনগেট নয়, বীরহাটা মোড় এবং বড়নীলপুর মোড়ের মতো জনবহুল এলাকাতেও একই চিত্র ধরা পড়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, নির্বাচনের সময় কোনোভাবেই সরকারি সম্পত্তি বা পরিকাঠামো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচারে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু বর্ধমানে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই বেআইনি কাজ চলছে। আমরা অবাক হচ্ছি যে প্রশাসন দেখেও কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”

বিএসএনএল ভবনের দেওয়ালে সরকারি প্রকল্পের বিজ্ঞাপন (Misuse of Government Property)
অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়। মৌমিতা বিশ্বাসের দাবি, কার্জনগেট এলাকার বিএসএনএল ভবনের দেওয়ালেও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ডিসপ্লে বোর্ড লাগানো রয়েছে, যা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে। তাঁর মতে, শাসকদল প্রভাব খাটিয়ে সরকারি যন্ত্রকে নিজেদের নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে ব্যবহার করছে। বিজেপি এই বিষয়ে শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে চলেছে।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক অবস্থান (Misuse of Government Property)
যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তৃণমূল শিবিরের দাবি, অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা পুরনো বিজ্ঞাপন থেকে যাওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল জানিয়েছেন, “অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি সত্যি আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Suvendu: হিন্দু ও মুসলিম উভয়কে একসাথে আঘাত ও অসম্মান করছেন মমতা | Bengal Liberty@SuvenduWB @MamataOfficial @BJP4Bengal #SuvenduAdhikari #bjpwestbengal #westbengalbjp #MamataBanerjee pic.twitter.com/19Zww1EnVa
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 21, 2026
আদর্শ আচরণবিধি ও তার গুরুত্ব (Misuse of Government Property)
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী:
• কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী সরকারি বাংলো, ভবন, খেলার মাঠ বা আকাশপথ প্রচারের কাজে এককভাবে ব্যবহার করতে পারবেন না।
• সরকারি অর্থে কোনো বিজ্ঞাপন বা প্রকল্পের প্রচার চালানো যাবে না যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।
• সরকারি কোনো ডিসপ্লে বোর্ড বা ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রার্থীর নাম বা দলের প্রতীক প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বর্ধমান দক্ষিণের এই বিতর্ক এখন নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। একদিকে বিজেপি যখন এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রশাসনের ‘পক্ষপাতিত্ব’ নিয়ে সরব হয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। এখন দেখার, জেলা প্রশাসন দ্রুত এই প্রচার সামগ্রী সরিয়ে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পারে কি না। বর্ধমানের রাজপথের এই ‘স্ক্রিন যুদ্ধ’ যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
