Unknown Men In 2026
Bengal Liberty, সিদ্ধার্থ দে:
পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের রহস্যজনক মৃত্যুর তালিকা(Unknown Men In 2026) আরও দীর্ঘ হলো। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনায় লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং হরকত-উল-মুজাহিদিনের (HuM) দুই শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছে। এই ঘটনাগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে ফের প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

পাঞ্জগুরে খতম হরকত জঙ্গি বিলাল আখুন (Unknown Men In 2026)
পাকিস্তান অধিকৃত বালুচিস্তানের পাঞ্জগুর জেলার চিতকান এলাকায় ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছে হরকত-উল-মুজাহিদিনের কুখ্যাত জঙ্গি বিলাল আখুন। এই হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
পটভূমি ও পরিচয়

বিলাল আখুন আদতে জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা ছিল। ২০১১ সালে সে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় এবং সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণে লিপ্ত হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে সে দীর্ঘকাল ধরেই ছিল।
ছদ্মবেশে বসবাস
পাকিস্তানে যাওয়ার পর বিলাল নিজের আসল পরিচয় গোপন করে পাঞ্জাব প্রদেশের রাজনপুরে বসবাস শুরু করে। সেখানে সে সাজিদ হোসেন নাম নিয়ে থাকছিল। তবে বালুচিস্তানে তার উপস্থিতি এবং সেখানে তাকে টার্গেট করা ইঙ্গিত দেয় যে, সে হয়তো কোনো বিশেষ অপারেশন বা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সেখানে গিয়েছিল।
মুরিদকে-তে লস্কর কম্যান্ডার বিলাল আরিফ সালাফি হত্যা (Unknown Men In 2026)
দ্বিতীয় এবং সম্ভবত সবথেকে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে লাহোরের কাছে মুরিদকে-তে অবস্থিত লস্কর-ই-তৈবার প্রধান কেন্দ্র মারকাজ তাইবা কমপ্লেক্সে। সেখানে লস্কর কম্যান্ডার বিলাল আরিফ সালাফিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঈদের নামাজের পর হামলা

ঘটনাটি ঘটেছিল ঈদের নামাজের ঠিক পরেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সালাফি যখন নামাজের জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছিল, তখনই দুজন আততায়ী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। এই জোড়া আক্রমণে সালাফি মারাত্মকভাবে আহত হয়।
অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত (Unknown Men In 2026)
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই সালাফির মৃত্যু হয়। তবে এই হামলার ধরণ এবং স্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লস্করের অত্যন্ত সুরক্ষিত আস্তানা হিসেবে পরিচিত মারকাজ তাইবা-তে এই হামলা চালানো সহজ কাজ নয়। সূত্রের খবর, এই হামলায় একজন মহিলার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছে, যা এই তত্ত্বকে জোরালো করে যে এটি কোনো বাইরের হামলা নয়, বরং লস্করের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা মিউটিনির ফল।
শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি
হামলার সময় ঘটনাস্থলে লস্করের প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম মৌলানা আবু জার। এই হাই-প্রোফাইল জমায়েতে সালাফিকে টার্গেট করা লস্কর-ই-তৈবার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ফাটলকেই প্রকট করে তুলেছে।

➡️ https://t.co/3dyJsBp5Lp বিস্তারিত পড়ুন লিংকে ক্লিক করে
The Unknown Men 2022-23: অপারেশন আননোন মেন, লস্কর-জইশ থেকে খলিস্তানি জঙ্গি—বিদেশের মাটিতে যেভাবে খতম হলো ভারতের শত্রুরা@bengalliberty #bengalliberty #indianraw #indianarmyforces #indianintelligence #unknownmen pic.twitter.com/krB5sn9Tmn— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 22, 2026
কেন এই হত্যাকাণ্ডগুলো গুরুত্বপূর্ণ? (Unknown Men In 2026)
এই দুটি ঘটনাই বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে:
• টার্গেট কিলিং: গত এক-দেড় বছরে পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া ভারতের একাধিক মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি একইভাবে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকধারীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। বিলাল আখুন এবং বিলাল সালাফি সেই তালিকার নবতম সংযোজন।
• আস্থার সংকট: লস্করের মতো শক্তিশালী সংগঠনের সুরক্ষিত দুর্গের ভেতরে ঢুকে কম্যান্ডারকে হত্যা করা প্রমাণ করে যে, তাদের অভ্যন্তরেই চরম অস্থিরতা চলছে।
• বালুচিস্তানে জঙ্গিদের গতিবিধি: বালুচিস্তানে কাশ্মীরি জঙ্গিদের উপস্থিতি এবং সেখানে তাদের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে পাকিস্তান বর্তমানে কোনো নিরাপদ স্বর্গরাজ্য নয়।
বিলাল আখুন এবং বিলাল আরিফ সালাফির মৃত্যু পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোর ওপর বড়সড় ধাক্কা। একদিকে অভ্যন্তরীণ লড়াই এবং অন্যদিকে অজানা শত্রুর ভয়—এই দ্বিমুখী চাপে বর্তমানে কোণঠাসা লস্কর ও হরকতের মতো সংগঠনগুলো। পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এই ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, জঙ্গি শিবিরের ভেতরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক এখন স্পষ্ট।
আরও পড়ুন :
ন্যায়ের চূড়ান্ত আঘাত(Mystery of Deadly Dawood Ibrahim): দাউদ ইব্রাহিমের রক্তক্ষয়ী সাম্রাজ্যের উত্থান ও করাচির অন্ধকার অধ্যায়
