Navratri celebration 2026
Bengal liberty desk, ২৪ মার্চ :
বসন্তের এই দেবীপক্ষে এখন আক্ষরিক অর্থেই ভক্তির জোয়ারে ভাসছে সারা দেশ (Navratri celebration 2026)। গত ১৯শে মার্চ থেকে শুরু হওয়া চৈত্র নবরাত্রি আজ এক অনন্য রূপ নিয়েছে। একদিকে শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের আবাহন, অন্যদিকে হিন্দু নববর্ষের সূচনা— সব মিলিয়ে ভারতজুড়ে এখন এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে দিল্লির ঝাণ্ডেওয়ালান মন্দির Navratri celebration 2026
নবরাত্রির এই বিশেষ লগ্নে দেশের রাজধানী দিল্লির চিত্রটা দেখার মতো। বিশেষ করে করোল বাগের ঐতিহ্যবাহী মাতা ঝাণ্ডেওয়ালান দেবী মন্দিরে ষষ্ঠীর ভোরের প্রথম আরতি থেকেই ভক্তদের ঢল নেমেছে। মন্দির চত্বর রকমারি ফুল ও আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ভক্তদের জন্য ভোর ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় আরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমেও কয়েক লক্ষ মানুষ এই জাঁকজমকপূর্ণ পুজো ও আরতি চাক্ষুষ করছেন।

ঘটস্থাপন ও শুভ মুহূর্ত:
২০২৬-এর চৈত্র নবরাত্রি ১৯শে মার্চ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। ঐদিন সকাল ৬টা ৫২ মিনিট থেকে ৭টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে শুভ ঘটস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই নয় দিনের প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়।
৯ দিনের রূপ ও রঙের মাহাত্ম্য:
নবরাত্রির প্রতিটি দিনে দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপের সাথে একটি নির্দিষ্ট রঙের ব্যবহারের রীতি রয়েছে:
প্রথম থেকে চতুর্থ দিন: হলুদ, সবুজ, ধূসর ও কমলা রঙের প্রাধান্য ছিল।
আজ ও আগামী দিনগুলি: আজ ষষ্ঠীতে লাল রঙের পোশাকে সেজেছেন ভক্তরা।
এরপর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর জন্য যথাক্রমে রাজকীয় নীল, গোলাপি এবং বেগুনি রং শুভ বলে মানা হয়।
মহাষ্টমী ও রাম নবমীর মহালগ্ন:
উৎসবের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তিথি হলো ২৬শে মার্চ, বুধবার— অর্থাৎ মহাষ্টমী। এই দিনে দেবী মহাগৌরীর আরাধনা ও কুমারী পুজোর বিশেষ আয়োজন থাকে। আগামী ২৭শে মার্চ রাম নবমীর মধ্য দিয়ে এই নবরাত্রির সমাপ্তি ঘটবে। ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মতিথি হওয়ার কারণে এই দিনটি ‘রাম নবরাত্রি’ হিসেবেও পরিচিত।
সুদিন ফেরাতে ঘরোয়া উপাচার:
জ্যোতিষ মতে, নবরাত্রির নয় দিন অশুভ শক্তি বিনাশের শ্রেষ্ঠ সময়। অনেকেই বাড়িতে ঘট স্থাপন করে তাতে ৯টি গ্রহের প্রতীক হিসেবে গম, লবঙ্গ, এলাচ, আতপ চাল ও হলুদের মতো উপাদান দিয়ে পুজো করছেন। বিশ্বাস করা হয়, এই পবিত্র নিয়মগুলো সঠিকভাবে পালন করলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং নেতিবাচক শক্তির বিনাশ ঘটে।
