Manoj Agarwal warning
Bengal Liberty, Kolkata:
প্রথম দফার ভোট মোটের উপর বড় কোনো অশান্তি ছাড়াই মিটেছে। এবার লক্ষ্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (Manoj Agarwal warning)। আর সেই নির্বাচনকে নিশ্ছিদ্র করতে কোমর বেঁধে নামছে কমিশন। শনিবার বনগাঁর হাই-ভোল্টেজ বৈঠক শেষে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করে দিলেন, এবারের নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক রাখা হবে না। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা এবং স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট থাকবে অনেক বেশি। সিইও-র এই কড়া অবস্থানে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বাহিনীর দাপট ও কড়া নজরদারি Manoj Agarwal warning
আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। সিইও-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় বুথের সংখ্যা কম থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা থাকবে অনেক বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম দফায় ৪৫ হাজার বুথ থাকলেও দ্বিতীয় দফায় বুথের সংখ্যা কমে হচ্ছে ৪০ হাজার। এলাকা কম এবং বাহিনী বেশি হওয়ার সুবিধা নিয়ে প্রতিটি বুথ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কড়া পাহারা নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। মনোজ আগরওয়াল সাফ জানিয়েছেন, বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নজরদারির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বনগাঁর মতো এলাকায় যেখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে নাকা চেকিং এবং পেট্রোলিং বাড়িয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

উর্দিধারীদের ওপর হামলা হলে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা
প্রথম দফায় কোথাও কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার খবর এসেছিল। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দেন সিইও। সেই সঙ্গে কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি কর্মী বা উর্দিধারী নিরাপত্তারক্ষীদের গায়ে হাত দিলে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। তাঁদের ওপর হামলা হলে কমিশন কঠোরতম পদক্ষেপ নেবে।” শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার লক্ষ্যে প্রশাসন যে কোনো আপস করবে না, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হরিণঘাটার বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক অসীম সরকার। বৈঠক শেষে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের এলাকার সুবিধা-অসুবিধার কথা সিইও-কে জানিয়েছি। কমিশন এবং পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, প্রথম দফার মতোই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হবে। ভোটারদের বাধা দিলে কমিশন কড়া ব্যবস্থা নেবে।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা সৌমেন দত্তও জানান যে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটদান নিয়েই মূলত এদিনের আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার আগে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বিরোধী শিবিরকে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। এখন দেখার, ২৯ এপ্রিলের লড়াইয়ে বুথগুলিতে মানুষের ভোটাধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকে।
