Mamata Banerjee letter
Bengal Liberty, kolkata:
ফের তৃণমূল সুপ্রিমো চিঠি দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। Mamata Banerjee letter এবার তাঁর অভিযোগ সরাসরি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে। একেবারে ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সুর বাঁধলেন তিনি। এবার ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা তুলে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন মমতা। ফর্ম-৬-এর অপব্যবহার করে ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম রাজ্যের তালিকায় ঢোকানোর অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে মমতার হুঁশিয়ারি, এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু বেআইনি নয়, তা অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক কাজ হবে। একইসঙ্গে ভোটাধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে কার্যত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোটার হাইজ্যাকিং’-এর অভিযোগ
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এজেন্টরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে হাজার হাজার ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিচ্ছে। শাসকদলের দাবি, এগুলি কোনও রুটিন আবেদন নয়, বরং এটি বাংলার ভোটার তালিকায় অ-নিবাসী বা বহিরাগতদের ঢুকিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতেও বিজেপি এই একই কৌশলে ‘ভোটার হাইজ্যাকিং’ করার চেষ্টা করেছিল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের দাবি
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২০শে ফেব্রুয়ারি মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) দ্বারা যাচাই করা হবে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, সেখানে তড়িঘড়ি প্রায় ৩০,০০০ নতুন আবেদন গ্রহণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আদালতের অবমাননা।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট দাবি, ভারতের নির্বাচন কমিশন যেন অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে এবং কঠোরভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে চলে। পাশাপাশি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কোনওভাবেই যেন ভুয়ো বা জাল ভোটার যুক্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মমতার হুঁশিয়ারি, “বাংলা তার গণতন্ত্রকে দিনের আলোয় চুরি হতে দেবে না”।
তৃণমূলের প্রধান দাবিগুলি
২৮শে ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কোনও নতুন জাল ভোটার যুক্ত করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমেই সমস্ত আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। ৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে গণহারে বহিরাগতদের নাম তোলার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বিজেপির দাবি, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে অসংখ্য ভুয়া ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা SIR সেই দুর্নীতিকেই উপড়ে ফেলছে। তৃণমূল যে ২০০ জনের মৃত্যুর দাবি করছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য নেই। বরং ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করার এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বাধা দিতেই শাসকদল সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিচ্ছে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
