TMC sympathy politics
Bengal Liberty, ৪ এপ্রিল :
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছিল ততোই সামাজিক মাধ্যমে একটা প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছিল। এবারের নির্বাচনে কোন নাটকীয় মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? TMC sympathy politics কেন উনি এখনও তাঁর পরিচিত চাল চলছেন না বা কিসের অপেক্ষা করছেন? ঠিক সেই মুহূর্তে শনিবার মালদহের মালতীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের সামনে একটি রহস্যময় ড্রোনের উপস্থিতিকে হাতিয়ার করলেন তৃণমূল নেত্রী। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই সহানুভূতি কুড়োনো তৃণমূলের পুরনো রাজনৈতিক কৌশল বলছেন বিরোধী দল। কখনও পা ভাঙা, কখনও মাথা ফাটা, আর এবার একেবারে ড্রোনের সাহায্যে হামলার ছকের তত্ত্ব খাড়া করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আসন্ন নির্বাচনের আগে ফের কি চেনা ছকেই ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী?

ঘটনাটি ঠিক কী? TMC sympathy politics
শনিবার মালদহের মালতীপুরে জনসভা সেরে গাজোলের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় হেলিপ্যাডে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের সামনে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। কপ্টারে ওঠার মুখে তা দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি এবং মাইক হাতে নিয়ে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেন এর পিছনে থাকা ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর তড়িঘড়ি তদন্তে নেমে পুলিশ তিনজনকে আটকও করেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ঘটনা এবং এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
পুরনো ছকের পুনরাবৃত্তি
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে পা ভাঙার ঘটনা থেকে শুরু করে ভোটের ঠিক আগে ‘মাথা ফাটা’, প্রত্যেকবারই নিয়ম করে নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিরোধীরা বরাবর অভিযোগ করেছে, ব্যর্থতা ঢাকতেই এই কৌশল, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্দেশখালি-একের পর এক ঘটনায় কাঠগড়ায় উঠেছে তৃণমূল সরকার। উন্নয়নের কোনও খতিয়ান তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন ফের সেই পুরনো সহানুভূতির কার্ড খেলার মরিয়া চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সাজানো ঘটনা? প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও
যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য নিশ্ছিদ্র বলয় থাকে, পুলিশ প্রশাসন সর্বদা তৎপর থাকে, সেখানে একটি ড্রোন কী করে কপ্টারের এত কাছে চলে এল? বিরোধীদের দাবি, পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত। যাদের আটক করা হয়েছে, তারা আদৌ কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি নেহাতই নিরীহ মানুষ-তা নিয়েও সংশয় দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, মালদহের এই ‘ড্রোন-কাণ্ড’ যে আসলে নির্বাচনের আগে সহানুভূতি আদায়ের আরও একটি ব্যর্থ চেষ্টা, বলছেন বিরোধীরা। তবে বারবার একই ছক দেখিয়ে এবারের নির্বাচনে রাজ্যের সচেতন মানুষের মন গলানো না, দাবি বিজেপির।
