Suvendu Adhikari
বেঙ্গল লিবার্টি, kolkata:
ভবানীপুর বিধানসভার নির্বাচনে তিনি আদৌ জয়ী হবেন কিনা তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Suvendu Adhikari। এক্ষেত্রে তাঁর একমাত্র ভরসার জায়গা ওই কেন্দ্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের ভোটাররা। কিন্তু রবিবার প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে একের পর এক মুসলিম জনতার কাছে স্নেহ ও ভরসার হাত পেলেন, তাতে উৎকণ্ঠায় পড়তে পারেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।
এক মুসলিম ভোটার তো শুভেন্দুর হাত ধরে বলেই ফেললেন, “আপনি আমাদের মনের মানুষ।” ভোট মাধুকরী শুভেন্দুও পাল্টা আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আপনারা একবার ভবানীপুরের মানুষরা আমার উপর আস্থা রাখুন। সমর্থন দিন, আমিও চেষ্টা করব আপনারা যাতে ভবানীপুরে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন।”

মমতার দুর্গে ধস? Suvendu Adhikari
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে নজর কাড়া কেন্দ্র ভবানীপুর। যেখানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি তাদের প্রার্থী করেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে। ২৩ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোট মিটে যেতে ভবানীপুরের মাটি কামড়ে প্রচার করছেন বিজেপি প্রার্থী। রবিবার সন্ধ্যায় ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদর স্ট্রিট এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচি করছিলেন শুভেন্দু। এই এলাকায় হিন্দু-মুসলিম মিশ্র মানুষের বাস। পায়ে হেঁটে প্রচারে শুভেন্দু যেমন জনসংযোগ করছিলেন হিন্দু ভোটারদের সঙ্গে, তেমনি তাঁর সঙ্গে মিলিত হচ্ছিলেন মুসলমান মানুষ জনও। ভারতীয় রাজনীতিতে সাধারণত ধারণা করা হয় মুসলিম ভোটাররা বিজেপি নেতাদের পছন্দ করেন না। এমনকি তাদের ভোটও দেন না। কিন্তু রবিবারের সন্ধ্যা যেন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরল ভবানীপুরের ভোটযুদ্ধ।
আবেগঘন বার্তা সংখ্যালঘু প্রৌঢ়ের
প্রচারের প্রায় শেষ লগ্নে সদর স্ট্রিটে আচমকাই বয়সে ফিরোজ পাটোয়ারী নামে এক মুসলিম ভোটারের সঙ্গে মুখোমুখি হন শুভেন্দু। সেখানেই ওই মুসলিম প্রৌঢ় শুভেন্দুকে বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে ছবি তুলতে চাই।” উপস্থিত বিজেপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু ওই ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে দিতে বলেন। বৃদ্ধ ফিরোজ নিজের ফোনটি তুলে দেন বিজেপি কর্মীদের হাতে, সেখানেই প্রায় চার পাঁচটি ছবি তোলেন তিনি। তারপরেই শুভেন্দু ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তার কাছে ভোট চান। ওই প্রবীণ মুসলিম প্রৌঢ় জানান, তিনি শুভেন্দুকেই ভোট দেবেন। সঙ্গে জানান, “আপনি আমাদের মনের মানুষ।”

এদিন প্রচারে বেরিয়ে একটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের দোকানেও যান তিনি। সেখানে তাঁকে বরণ করে মালা পরিয়ে দেন সংখ্যালঘু মানুষজন। এক বিজেপি নেতার কথায়, “শুভেন্দুদা ভবানীপুরে ঝড় তুলে দিয়েছেন। সেই ঝড়ে মমতা ব্যানার্জি উড়ে যাবেন। শুধু হিন্দু ভোটাররাই নন, ভবানীপুরের মুসলিম ভোটাররাও, তৃণমূল নেতাদের অত্যাচারে অত্যাচারিত। তাই সবাই তৃণমূলের থেকে পরিত্রাণ চাইছেন। একমাত্র শুভেন্দুদা সেই কাজ করতে পারবেন তা হিন্দু মুসলিম সবাই ধর্মের মানুষ নির্বিশেষে বুঝতে পেরেছেন। তাই পাঁচ বছর পর নন্দীগ্রামের পর আবার শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারতে চলেছেন মমতা ব্যানার্জি।”
