Bijay Thalapati
Bengal liberty desk, 5 মে :
তামিলনাড়ুর রাজনীতির ইতিহাসে ৪ মে দিনটি এক মহাকাব্যের মতো থেকে যাবে। একদিকে যখন ডিএমকে-এআইএডিএমকে-র মতো কয়েক দশকের মহীরুহদের উপড়ে ফেলে অভিনেতা বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ (TVK) ১০৭টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজয়ের চেন্নাইয়ের বাড়ির বারান্দায় দেখা মিলল এক চেনা মুখের— অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। বিজয়ের এই বিরাট রাজনৈতিক উত্থান আর ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙা-গড়ার খেলায় তৃষার এই উপস্থিতি এখন দাক্ষিণাত্যের সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়। Bijay Thalapati

রাজনীতির পিচে ‘ধোনি’ স্টাইল: Bijay Thalapati
বিজয় তাঁর প্রথম রাজনৈতিক ইনিংসেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে তিনি যে ‘হুইসেল’ প্রতীক নিয়ে ময়দানে নেমেছিলেন, তা সরাসরি ছুঁয়ে গিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্রিকেটীয় আবেগকেও। সিএসকে-র ‘হুইসেল পোডু’ আর বিজয়ের ‘হুইসেল’ যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল ভোটবাক্সে। ধোনি যেমন শেষ ওভারে বাজিমাত করেন, বিজয়ও ঠিক সেভাবেই রাজনীতির সুপার ওভারে ডিএমকে-র দুর্গ টলিয়ে দিয়েছেন।
সাফল্যের দিনে ব্যক্তিগত মেঘ:
কিন্তু এই রূপকথার মতো জয়ের পেছনে রয়েছে এক যন্ত্রণার চোরাস্রোত। দীর্ঘদিনের স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম বিজয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছেন। বিজয়ের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের দিনেও সঙ্গীতা ব্রাত্য। অথচ ঠিক সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই যেন তৃষার আবির্ভাব। ৪ মে ছিল তৃষার ৪৩তম জন্মদিন। সকালবেলা তিরুপতি মন্দিরে বিজয়ের জন্য প্রার্থনা সেরে বিকেল হতেই তৃষাকে দেখা গেল বিজয়ের বাড়িতে।
তৃষা-বিজয়: গুঞ্জন থেকে শিলমোহর?
গত কয়েকমাস ধরে বিদেশ ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিয়েবাড়িতে একসঙ্গে যাওয়ার যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, বিজয়ের বাড়ির বারান্দায় তৃষার ওই ‘থাম্বস আপ’ সংকেত যেন তাতে অলিখিত শিলমোহর দিয়ে দিল। অভিনেত্রী লক্ষ্মী মাঞ্চুর সেই বিতর্কিত শুভেচ্ছা— “ব্রহ্মাণ্ড আজ তোমাকে সেরা জন্মদিনের উপহার দিয়েছে”— স্পষ্ট করে দেয় যে, বিজয়ের এই ১০৭টি আসনে জয় আসলে তৃষার কাছেও এক ব্যক্তিগত জয়।
তামিলনাড়ু হয়তো তাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে, কিন্তু সেই কুর্সিতে বসার পথে বিজয়কে লড়তে হয়েছে দু’টি ফ্রন্টে। একদিকে যখন তিনি ভোটবাক্সে বিরোধীদের কুপোকাত করেছেন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ে তাঁকে সামলাতে হয়েছে পরিবার ও আইনি লড়াই। ১০৮-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে যখন জোটের সমীকরণ চলছে, তখন বিজয়ের পাশে ছায়ার মতো তৃষার উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে— রাজনীতির সেনাপতি যাই হোন না কেন, ব্যক্তি জীবনের সেনাপতি হিসেবে তিনি সম্ভবত তৃষাকেই বেছে নিয়েছেন।
