Bhawanipur
Bengal Liberty, ৫ মে:
ভবানীপুরে আজ শুভেন্দু অধিকারী শুধুমাত্র জয়লাভই করেননি তার পাশাপশি বদলে দিয়েছে একটা গোটা সমীকরণও (Bhawanipur)। ভবানীপুরের ফল শুধু একটি আসনের হার-জিত নয়, দীর্ঘ ঐতিহাসিক মিথের বদল। ভরকেন্দ্রের জয়ের চিত্রে স্পষ্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে বড় অংশে বাম ভোট সরে এসেছে। সংখ্যাটা দেখলেই বিষয়টা পরিষ্কার জলের মতো। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় সিপিএম প্রার্থী পেয়েছিলেন ১৪ হাজারের বেশি ভোট। অথচ এবারের বিধানসভা ভোটে তা নেমে দাঁড়াল মাত্র ৩৫৫৬-তে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোট উধাও। অঙ্ক বলছে, এই বিশাল অংশের ভোটই ঘুরে গেছে বিজেপির দিকে। তাই বলাই বাহুল্য বাম ভোটারদের একাংশ এখন অ্যান্টি-তৃণমূল থেকে নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা খুঁজে নিয়েছে। ফলস্বরূপ কুর্শি পদ্মের হাতে (Bhawanipur)।

ঘাসফুলের হারে গেরুয়ার উত্থান (Bhawanipur)
বাংলার রাজনীতিতে বাম ভোট বিজেপির দিকে সরে যাওয়ার নজির নতুন নয়, তবে এবারের ছবিটা আরও বড় ও স্পষ্ট। বাস্তব চিত্র বলছে, সিপিএমের তুলনায় অনেক বেশি ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কই। তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূলের ঝুলি থেকে প্রায় ২৯.৫ লাখ ভোট কমেছে, বিপরীতে বিজেপির ভোট বেড়েছে প্রায় ৬৩ লাখ। রাজনৈতিক অঙ্কে এই ব্যবধানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তৃণমূলের হারানো ভোটের বড় অংশ সরাসরি গেরুয়া শিবিরের দখলে গিয়েছে, আর সেখানেই লুকিয়ে বিজেপির জয়ের আসল রহস্য।

মমতার গড়ে মমতার হারের হিসাব (Bhawanipur)
ভবানীপুরের অঙ্ক বলছে, লড়াইটা শুধু প্রার্থীভিত্তিক ছিল না, ভোটের স্রোতও দিক বদলেছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৬২,৪৬১ ভোট। যদিও এসআইআরের পর ভোটার সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবুও এবারের বিধানসভা ভোটে মমতার প্রাপ্ত ভোট নেমে আসে ৫৮,৮১২-তে। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী ৭৩,৯১৭ ভোট পেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত ১৫,৫০৫ ভোটে জয় ছিনিয়ে নেন। ফলাফল একটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভোটের মেরুকরণে বদলে গেছে ভবানীপুরের খেলা, আর সেই বদলের ঢেউয়েই ভেসে এসেছে গেরুয়া
