Bengal Liberty, ৫ মে:
ভোটের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে প্রথম বড় রদবদল ঘটল। রাজ্যপালের সচিব পদে নিয়োগ করা হল আইএএস আধিকারিক সৌমিত্র মোহনকে। ২০০২ ব্যাচের এই আধিকারিক এতদিন রাজ্যের পরিবহণ দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে ওই দফতরে দায়িত্ব সামলানোর পর তাঁকে সরিয়ে এবার লোকভবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হল। Governor of WB

রাজভবন পেল নতুন স্থায়ী সচিব Governor of WB
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সচিব পদে একজন পূর্ণসময়ের অভিজ্ঞ আমলা নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন আরএন রবি। গত ১২ মার্চ তিনি কলকাতায় শপথ নেওয়ার পরপরই রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়ে অনুরোধ জানান। তবে ভোট পর্ব চলাকালীন প্রশাসনিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কারণে তখন কোনও বদলি করা হয়নি। গণনা প্রক্রিয়া শেষ হতেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সৌমিত্র মোহনকে ওই পদে বসানো হল। এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। গত কয়েক বছরে রাজ্যপালের সচিব পদটি কার্যত স্থায়ীভাবে পূরণ হয়নি।
ফলে প্রশাসনিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে সৌমিত্র মোহনের নিয়োগকে অনেকেই প্রশাসনিক স্থিতি ফেরানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। পরিবহণ দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকায় রাজ্যপালের সচিব হিসেবে তিনি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন বলেই ধারণা প্রশাসনিক মহলের একাংশের।

তিন বছর পর স্থায়ী সচিব পদে নিয়োগ
প্রায় তিন বছর পর রাজভবন পেল স্থায়ী সচিব। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাঁর প্রধান সচিবের পদ থেকে আইএএস নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে এই পদে আর কোনও আইএএস আধিকারিককে স্থায়ীভাবে বসানো হয়নি। নন্দিনী চক্রবর্তীর ঘটনাও সে সময় রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল। তাঁকে প্রথমে রাজ্যপালের সচিব করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজভবন সূত্রে তখন জানা গিয়েছিল, তাঁকে ‘শাসকদলের ঘনিষ্ঠ’ তকমা দেওয়ার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পরে মুখ্যসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
আরও আমলাস্তরে রদবদলের সম্ভাবনা
ঘটনাচক্রে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ঠিক পরদিনই এই নিয়োগের ঘোষণা সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক স্তরে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই প্রথম ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, আগামী দিনে আরও বড় আকারে আমলাস্তরে রদবদল হতে পারে। সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যপালের দফতরে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক—দু’দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: পাশা বদলাতেই গ্রেফতার তৃণমূল সাংসদের ভাগ্নে, ভোটের দিন অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি
