Lionel Messi
Bengal Liberty, ৫ মে :
সময় বড়ই বিচিত্র। ছ’মাস আগে যে অরূপ বিশ্বাস ক্ষমতার দম্ভে বিশ্ববরেণ্য ফুটবলারদের সামনে দাদাগিরি করেছিলেন, আজ রাজ্যের পালাবদলের পর তাঁরই জেলযাত্রা কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল Satudru Dutta। মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত, এবার সেই পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করতে ময়দানে নামলেন তিনি। Satudru Dutta

কী ঘটেছিল ১৩ ডিসেম্বর? Satudru Dutta
গত বছরের সেই অভিশপ্ত ১৩ ডিসেম্বর। কলকাতায় পা রেখেছিলেন ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও রড্রিগো দি’পল। যুবভারতী স্টেডিয়ামে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দর্শকরা এসেছিলেন একঝলক বিশ্বজয়ী তারকাদের দেখতে। কিন্তু অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর বিশাল সাঙ্গোপাঙ্গ বাহিনী কার্যত জবরদস্তি করে স্টেডিয়াম দখল করে নেয়।
শতদ্রু দত্তর অভিযোগ, সাধারণ দর্শকদের বঞ্চিত করে অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর দলবল মেসিদের ঘিরে ধরে ‘ফটো সেশন’ করতে ব্যস্ত ছিলেন। শতদ্রুর টিমকে বাধা দেওয়া হয়েছিল, ইভেন্ট ভেস্তে দেওয়ার জন্য তাঁদের ঘরবন্দি করে রাখার মতো নক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছিল। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি স্টেডিয়ামে শাসক দলের নেতার ‘পারিবারিক অনুষ্ঠান’ বানানোর চেষ্টায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ফেটে পড়ে যুবভারতীতে। এমনকি বিদেশের সংবাদপত্রেও নিন্দিত হয় কলকাতার গোট ট্যুর। ওইদিনই দুপুরের মধ্যেই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে।

কী বললেন শতদ্রু দত্ত?
গতকাল রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যায় জিতে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়াতে এবার মুখ খুললেন শতদ্রু। সোমবার ফেসবুকে স্টোরি দিয়ে শতদ্রু লেখেন,“আমার টিমের কাছে জোর করে অ্যাক্সেস কার্ড চাওয়া হয়েছিল। তারা দিতে না চাওয়ায় তাদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আপনারা স্রেফ আমার ইভেন্ট নষ্ট করেননি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। আমাকে নিয়ে চক্রান্ত করেছেন। আপনাদের জন্য সব সমর্থকেরা হতাশ হয়েছে। আপনাদের জন্যেই আমি ৩৮ দিন জেলে ছিলাম। সবকিছুর হিসেব হবে। আমার সময় এসেছে। ভগবান সব দেখছেন।” দুটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন,“আমার আর্তনাদ কেউ শোনেনি। পাশে উনি (অরূপ) মজা নিচ্ছিলেন। বারবার বলেছিলাম এখানে ছবি তোলাবেন না। কিন্তু দাদাগিরি করে তুলেছিল। এবার দ্যাখ কেমন লাগে। সব হিসেব দিতে হবে।”

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই শতদ্রু দত্তের ফেসবুক স্টোরি এখন টক অফ দ্য টাউন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এতদিন স্রেফ নিজের পরিবারের নিরাপত্তার খাতিরে মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করলেও, এখন আর তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। খুব শীঘ্রই একটি মেগা প্রেস কনফারেন্স করে তৃণমূল জমানার সমস্ত অন্ধকার দিক ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সেই সঙ্গে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নাম না নিলেও তাঁর দিকেই ইঙ্গিত করে শতদ্রু জানিয়েছেন, তাঁর ৩৮ দিনের জেলবাস এবং অসম্মানের বদলা নিতে তিনি ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি টাকার মানহানি ও ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। মারাদোনা বা মার্টিনেজের মতো মহাতারকাদের সফলভাবে কলকাতায় আনা এই উদ্যোক্তার অভিযোগ, মেসির সফরের সময় যে চরম বিশৃঙ্খলা ও চক্রান্ত হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব এবার কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়া হবে। সমর্থকদের মতে, শতদ্রুর এই ‘হুঙ্কার’ আসলে বিদায়ী শাসক শিবিরের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের জন্য এক বড়সড় অশনি সঙ্কেত।
