Mamata Banerjee Kalighat meeting
Mamata Banerjee Kalighat meeting

Mamata Banerjee Press meeting: মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগে অস্বীকার! জনতার রায়কে অপমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, উঠছে প্রশ্ন

Bengal Liberty, ৫ মে:

দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের অভূতপূর্ব উত্থান হয়েছে (Mamata Banerjee Press meeting)। ভোটের ফলাফলে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো নিজের গড় বলে পরিচিত ভবানীপুরেই পরাজিত হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কাছে। ফলাফল প্রকাশের পরদিন আজ কালীঘাটে সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী- তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। তিনি বলেন, “আমরা হারিনি, ভোট লুট হয়েছে। তাই পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই ওঠে না, রাজভবনে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই।” একই সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘ফ্রি বার্ড’ বলে ঘোষণা করে দিলেন।

Mamata Banerjee Press meeting
Mamata Banerjee Press meeting

ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Mamata Banerjee Press meeting

১৫ বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিন কালীঘাটে নিজের বাড়িতে বিকেল ৪টায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না।

তাঁর বক্তব্য, “আমরা হারিনি, ভোট লুট হয়েছে। তাই পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই ওঠে না, রাজভবনে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই।” তিনি আরও বলেন, “কাউন্টিং সেন্টারও হাইজ্যাক করে নেওয়া হয়েছিল। ভোটে হার-জিত আছে, কিন্তু আমরা হারিনি, জোর করে দখল করেছে। ” বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তিনি ভোটে হার নিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠনের ঘোষণা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমি চেয়ারের পরোয়া করি না, মানুষের কথাই ভাবি। ইঞ্চি ইঞ্চি লড়াই করেছি আমরা।” তিনি আরও বলেন, ”জোর করে দখল করার পর কেউ যদি মনে করে আমি পদত্যাগ করব, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। আমি এখনও মনে করি, এই জয় জোর করেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

 

তীব্র আক্রমন নির্বাচন কমিশনকে

এদিনের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় ছিল নির্বাচন কমিশন-সহ কেন্দ্রীয় শক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি আসন লুট করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ তোলেন, “স্বাভাবিকভাবে হারলে মেনে নিতাম। কিন্তু এই ফল স্বচ্ছ নয়।” এদিন সাংবাদিক সম্মলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিষোদগার তুলে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “এই রকম নির্বাচন আগে কখনও দেখিনি।” আমাদের লড়াই শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও। কমিশন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, যদি বিচারব্যবস্থা থেকেও ন্যায় না মেলে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে গণতন্ত্র নিয়েই। ” তিনি আরও দাবি করেন, ইণ্ডি জোটের সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিবাল ও অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন।

জনতার রায়কে অসম্মান তৃণমূল নেত্রীর– উঠছে প্রশ্ন

জনতার রায়ে সরকার বদলের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের প্রশ্ন উঠলেও তা সরাসরি খারিজ করেছেন তিনি। “আমরা তো হারিনি। জোর করে ফল বদলানো হয়েছে। তাহলে পদত্যাগ কেন করব?” এই মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ফলাফলে শাসকদল পিছিয়ে পড়ার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করায় প্রশ্ন উঠছে—এটি কি জনতার রায়ের প্রতি অসম্মান? বিরোধীদের দাবি, জনগণ সরকার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে পদত্যাগ না করা গণতান্ত্রিক প্রথার বিরোধী। ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী, তাও মানুষের রায় মানতে নারাজ মমতা। না সরলে, ৭ তারিখেই তো মেয়াদ শেষ। এভাবে জনাদেশকে অপমান করা যায় না। বিজেপির দাবি, ২০১১ ছাড়া কোনওবারই জনতার রায় মানেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্বৈরচারিতার সব সীমা ছাড়িয়ছেন– মত ওয়াকিমহলের

নির্লজ্জতার চুড়ান্ত সীমা ছাড়িয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনতার রায়কে নির্লজ্জভাবে অপমান করলেন বাংলার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, স্বৈরচারিতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ফলে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগে অস্বীকৃতি, অন্যদিকে জনতার রায়ের ব্যাখ্যা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ—সব মিলিয়ে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury