WB CM 2026
Bengal Liberty, ৮ মে :
২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ রাজনৈতিক যুদ্ধ (Suvendu Adhikari)। সমস্ত যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কুর্শির আধিকারিক হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় শুভেন্দু অধিকারীকে৷ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে একদিকে ছিলেন বাংলার তৎকালীন সর্বশক্তিমান নেত্রী তৃণমূল নেত্রী অন্যদিকে তাঁরই একসময়ের বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। ২১- এর পর ২৬ পরপর দু’বার নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে শেষ পর্যন্ত বাংলার ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। একসময় যাঁকে ‘বিদ্রোহী’ তকমা দিয়েছিল তৃণমূল, আজ তিনিই বাংলার নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ লড়াই, তীব্র আক্রমণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং মমতা-বিরোধী জনমতকে হাতিয়ার করেই অবশেষে নবান্নের কুর্সির দখল নিলেন শুভেন্দু। আজ, বুধবার সন্ধ্যেবেলা তিনি লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবেন (Suvendu Adhikari)৷

সর্বসম্মতিতে শুভেন্দুর নামেই সিলমোহর বিজেপির (Suvendu Adhikari)
গত সোমবার প্রকাশিত হয় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। ফল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছিল জোর রাজনৈতিক জল্পনা-বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন? রাজ্য বিজেপির অন্দরে একাধিক নাম ঘুরে বেড়ালেও শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সেই জল্পনারই অবসান ঘটে। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের সর্বসম্মত সমর্থনে পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় শুভেন্দু অধিকারীকে। এর মধ্য দিয়েই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন তিনিই।

বাংলার গেরুয়া শিবিরের প্রধান মুখ-শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)
নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। তিনিই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে সর্বসম্মতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। শাহ জানান, শুভেন্দুর নামের সমর্থনে মোট আটটি প্রস্তাব জমা পড়ে। এরপর অন্য কোনও নাম প্রস্তাব করতে কেউ ইচ্ছুক কি না, তা জানতে চাওয়া হলেও সভাকক্ষে আর কোনও বিকল্প নাম ওঠেনি। ফলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত হয়। এই ঘোষণার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন । মোহন চারণ মাঝি, বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বানসাল সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
