Adhir Ranjan Chowdhury
Bengal Liberty, ১০ মে :
দীর্ঘদিন বাংলার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্যের পর ক্ষমতা হারিয়ে এখন কার্যত রাজনৈতিক জমি ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি অ-বিজেপি দলগুলির (Adhir Ranjan Chowdhury)। বিজেপির উত্থানের পর বাম, কংগ্রেস ও অতিবাম শক্তিকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু সেই আহ্বান ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বামেদের পর এবার কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীও মমতার প্রস্তাবকে ‘হতাশার রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করলেন। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের রাজনৈতিকভাবে শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন মমতা, আজ ক্ষমতা হারিয়ে তাঁদের কাছেই সাহায্য চাইছেন তিনি (Adhir Ranjan Chowdhury)।

‘কংগ্রেসকে শেষ করে এখন জোট চাইছেন’-মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়তে বাম, কংগ্রেস ও অতিবাম শক্তিকে একসঙ্গে আসতে হবে। এমনকি তিনি বলেন, বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে যে কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু সেই আহ্বানের জবাবে অধীর চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কড়া। তিনি বলেন, “কংগ্রেস এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোকে শেষ করেছে তৃণমূল। এখন নিজেরা বিপদে পড়ে সবাইকে ডাকছে।” অধীরের দাবি, রাজনৈতিক সততা থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগে জাতীয় স্তরে রাহুল গান্ধির নেতৃত্ব মেনে নিতে হবে। তাঁর কথায়, “আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে দিদিকে রাহুল গান্ধির কাছেই হাতজোড় করে দাঁড়াতে হবে।”

অভিষেককে কটাক্ষ (Adhir Ranjan Chowdhury)
তৃণমূল নেতৃত্বকে আক্রমণ করতে গিয়ে অধীর চৌধুরী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, “অভিষেকের বাড়ি এখন মিউজিয়াম হয়ে গিয়েছে। মানুষ টিকিট ছাড়াই দেখতে যাচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, খুব শীঘ্রই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবস্থাও নাকি একই হতে চলেছে। তবে শুধু তৃণমূলকে আক্রমণ করেই থেমে থাকেননি অধীর। সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারকেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, তা পূরণ করতে হবে। নাহলে মানুষ যেমন তৃণমূল সরকারকে সরিয়েছে, তেমনই বিজেপিকেও সরাতে সময় নেবে না।
