Agnimitra Paul
Bengal Liberty, ১৩ মে:
পরিবর্তনের পর নবান্নে যখন সুশাসনের সংকল্প নেওয়া হচ্ছে, তখন সরকারি হাসপাতালের অন্দরে কি এখনও সেই পুরনো ‘টিএমসি কালচার’ চলছে? বুধবার চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিলজলার আহতদের দেখতে গিয়ে এমনই এক নরককঙ্কাল অবস্থার সম্মুখীন হলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রোগীদের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে করিডর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নোংরা আবর্জনা দেখে মেজাজ হারালেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন দাপুটে এই নেত্রী।

বিছানার নিচে সিরিঞ্জ আর বোতল!
এদিন আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যখন মন্ত্রী ওয়ার্ডে ঢোকেন, তখন দৃশ্যটা ছিল বীভৎস। রোগীদের বেডের চারপাশে ছেঁড়া ও নোংরা চাদর, যত্রতত্র ফেলে রাখা ব্যবহৃত গ্লাভস আর সিরিঞ্জ। এমনকি বেডের নিচ থেকে উদ্ধার খালি বোতল ও নোংরা চাদর! এই চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখে হাসপাতালের আধিকারিকদের রীতিমতো ক্লাস নেন অগ্নিমিত্রা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হাসপাতাল কি আস্তাকুঁড়? রোগ সারতে এসে মানুষ কি এখানে আরও বেশি করে সংক্রমিত হতে আসবে?”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন “সবার ক্ষমতা নেই প্রাইভেট হাসপাতালে যাওয়ার, তাই ভরসা নিয়ে মানুষ সরকারি হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এখানে তাঁদের এই পশুর মতো অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে কেন?” এছাড়াও ওয়ার্ডের করিডরে কেন আবর্জনা জমে রয়েছে এবং কেন নির্দিষ্ট সময়ে চাদর পাল্টানো হচ্ছে না, তার কৈফিয়ত ও দিতে বলেন তিনি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন না করলে ও পরিষেবা উন্নত না করলে এর ফল ভালো হবে না বলে সরাসরি কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন আগ্নিমিত্রা পাল ।

তিলজলার ঘটনায় যারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁদের সুচিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আগের জমানার মতো দায়সারা কাজ করে আর পার পাওয়া যাবে না। মানুষের করের টাকায় চলা হাসপাতালে সাধারণ মানুষ ভিআইপি পরিষেবা না পেলেও অন্তত ন্যূনতম স্বাস্থ্যকর পরিবেশ টুকু পাবেন এটাই নিশ্চিত করতে চায় নতুন সরকার।
আরও পড়ুন: রাজ্যে ‘তোলাবাজি’র দিন শেষ! সব অবৈধ টোল প্লাজা বন্ধের কড়া নির্দেশ নবান্নের
