CBI Investigation
Bengal Liberty, ১৩ মে :
ক্ষমতায় এসেই প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CBI Investigation)। বুধবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে আর রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক তদন্তে এবার গতি আসবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। একইসঙ্গে অবৈধ কারখানা, বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার (CBI Investigation)।

চার বছর ধরে আটকে থাকা ফাইলে মিলল ছাড়পত্র (CBI Investigation)
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলে দুর্নীতির একাধিক তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে কোনো সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে গেলে রাজ্যের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত চার বছর ধরে সিবিআইয়ের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার অনুমোদন ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্ত ফাইল খতিয়ে দেখে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে এবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই সরাসরি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু প্রভাবশালী আমলার বিরুদ্ধে তদন্তের পথ খুলে গেল।

তিলজলা কাণ্ডে কড়া অবস্থান (CBI Investigation)
সম্প্রতি তিলজলায় ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার পর আরও কড়া মনোভাব নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধু অবৈধ কারখানার মালিকদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, এই ধরনের কারখানা কীভাবে বছরের পর বছর চলল, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা CESC-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করতে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অডিট চালিয়ে এই ধরনের সমস্ত বেআইনি ইউনিট চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, চিহ্নিত অবৈধ কাঠামো একদিনের মধ্যেই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চাপে আমলা মহল (CBI Investigation)
নির্বাচনী প্রচার থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা বলেছিল বর্তমান সরকার। এদিন সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন , “দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিই অনুসরণ করা হবে।” সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করলেও প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক মহলে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, সিবিআইয়ের হাতে তদন্তের স্বাধীনতা বাড়ায় আগামী দিনে একাধিক বড় নাম সামনে আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এখন নজর, তদন্তের জালে শেষ পর্যন্ত কোন কোন বড় মাথা ধরা পড়েন।
