CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ১৫ মে :
কারাগারের দুর্ভেদ্য দেওয়ালের আড়ালে বসেই অনায়াসে পরিচালিত হচ্ছে অপরাধের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক (CM Suvendu Adhikari)। প্রেসিডেন্সি জেলের মতো রাজ্যের অন্যতম হাই-সিকিউরিটি সংশোধনাগারে বন্দিদের দেদার মোবাইল ব্যবহারের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আনলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, জেল কর্তৃপক্ষের একাংশের মদত এবং বিগত সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই এই বেআইনি কারবার চলছে। কারা মদত দিচ্ছে এই দুর্নীতিতে ? বাজেয়াপ্ত করা হয় মোবাইল।পাশাপশি মোবাইলের SIM কাদের নামে, তা জানতে CID কে তদন্তভার দিল রাজ্য। “জেলবন্দিদের সঙ্গে যাঁরা ফোনে কথা বলেছেন, তাঁরাও অভিযুক্ত”, নবান্নে বললেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করে শুভেন্দু অধিকারী । এই ঘটনা রাজ্যের করা নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে (CM Suvendu Adhikari)।

পর্দাফাঁস ও কড়া পদক্ষেপ (CM Suvendu Adhikari)
প্রেসিডেন্সি জেলে মোবাইল ব্যবহারের গোপন খবর পেয়েই ডিজি কারেকশনাল হোমকে তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং বন্দিদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের ভেতরে বসেই নিজেদের নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে।” সাধারণ নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দাগি অপরাধীদের এই অবাধ সাম্রাজ্যের স্বরূপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দিকটি জনসমক্ষে আনতেই সরকার এই ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছে।

নেক্সাস ভাঙার ডাক (CM Suvendu Adhikari)
এই অপরাধ চক্রের শিকড় যে অনেক গভীরে, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, নিচতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত বছরের পর বছর ধরে এই সুপরিকল্পিত আঁতাত গড়ে উঠেছে। তবে এই অশুভ নেক্সাস ভাঙতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। অপরাধী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত জেল আধিকারিকদের চক্রকে সমূলে উৎখাত করতে নবান্ন যে অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করতে চলেছে, এদিনের বৈঠক থেকে সেই বার্তাই স্পষ্ট করা হয়েছে।
সংশোধনাগারের মূল উদ্দেশ্য অপরাধীদের সংশোধন করা। কিন্তু রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়ে জেলের ভেতর বেআইনি সুবিধা জোগায়, তবে সার্বিক প্রশাসনই প্রশ্নের মুখে পড়ে। প্রেসিডেন্সি জেলে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা কারা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অন্ধকার দিকটিকে নগ্ন করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর, কারাব্যবস্থার নিরাপত্তার দিকটি নজরে রেখে বা বদলে প্রশাসন ঠিক কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই চক্রের কীভাবে পতন ঘটে, এখন সেটাই দেখার।
