rgkar case reopen
Bengal Liberty, ১৫ মে:
আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের পথে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬-এর পটপরিবর্তনের পর ‘তিলোত্তমা’ মামলার ফাইল পুনরায় খুলে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টাকারী পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিল নতুন সরকার। (RG Kar File Reopen)

৩ দুঁদে আইপিএস অফিসার সাসপেন্ড
আরজি কর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ‘তিলোত্তমা’র নৃশংস খুন ও ধর্ষণ মামলায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত করার অভিযোগে তিন শীর্ষ পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাসপেন্ড হওয়া তিন অফিসার হলেন: বিনীত গোয়েল (কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার),ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়,অভিষেক গুপ্ত।

পরিবারকে ‘টাকা’ দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টার অভিযোগ
নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া সুরে জানান যে, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আরজি করের ঘটনার পর নির্যাতিতার মা-বাবার কাছে গিয়ে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই পুলিশ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে অপমান করার অভিযোগে আমরা এই তিনজনকে সাসপেন্ড করছি।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন “যখন বিভাগীয় তদন্ত হবে তখন যাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি তাঁদের বক্তব্যও নেব, অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার যদি চায় তাহলে তাদের বাড়িতে গিয়েও তাঁদের বক্তব্য আমাদের অফিসাররা নিয়ে আসবে।” এছাড়াও তিনি সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ বলেন “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। সেই সময়ের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে আরজি কর মামলা নিয়ে যে ধোঁয়াশা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছিল, শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অ্যাকশন’ তাকে নতুন মোড় দিল। দোষীদের আড়াল করার চেষ্টায় লিপ্ত পুলিশ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে জবাবদিহি করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।
