Diamond Harbour
Bengal Liberty, ১৬ মে :
রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক কষা হচ্ছে (Fake mail about CM)! এমন এক চাঞ্চল্যকর ইমেল ঘিরে প্রবল শোরগোল ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। তবে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত। শনিবার লালবাজারে এক সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এক মহিলাকে ফাঁসাতেই আল-কায়েদা যোগের এই ভুয়ো গল্প ফেঁদেছিল ধৃত যুবক। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা যেমন জোরদার করা হয়েছে, তেমনই ভুয়ো খবর রটনাকারীদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে লালবাজার (Fake mail about CM)।

ভবানীপুর থানায় হুমকি ইমেল ও গ্রেফতারি (Fake mail about CM)
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৪ মে মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুর থানায় একটি ইমেল এসে পৌঁছয়। তাতে দাবি করা হয়, জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত এক মহিলা আত্মঘাতী বোমা হামলার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছেন। এমনকি, ওই হামলার জন্য বোমাও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে ইমেলে উল্লেখ ছিল। এই স্পর্শকাতর বার্তা পাওয়ামাত্রই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল ও গার্ডেনরিচ থানার যৌথ অভিযানে দ্রুত ইমেলের উৎস ট্র্যাক করা হয়। এরপরই হাসনেম ইকবাল নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নেপথ্যে ব্যক্তিগত আক্রোশ (Fake mail about CM)
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে, মুখ্যমন্ত্রীর প্রাণসংশয়ের এই বার্তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই, এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। যে মহিলার নামে জঙ্গিযোগের অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাঁর সঙ্গে ধৃত যুবকের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে। পুলিশি জেরায় হাসনেম স্বীকার করেছে, স্রেফ ওই মহিলাকে পুলিশের জালে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই সে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছিল। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এর আগেও নির্বাচন কমিশনের দফতর এবং রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এই ধরনের উড়ো ও ভুয়ো ইমেল পাঠিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।

নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হল মুখ্যমন্ত্রীকে (Fake mail about CM)
সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর গত ৯ মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। পাশাপাশি, নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও জয়লাভ করলেও পরে সেই আসন থেকে ইস্তফা দেন। ভবানীপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের নামে এমন হুমকি আসার পর স্বভাবতই আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় নিশ্ছিদ্র করতে তৎপর হয়েছেন আধিকারিকরা।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার স্পেসকে হাতিয়ার করে এহেন ভুয়ো খবর ছড়ানোর প্রবণতা রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিচ্ছে প্রশাসন। লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা, দেরিতে হোক বা দ্রুত, ভুয়ো ইমেল প্রেরকরা ধরা পড়বেই। ভবিষ্যতে এই ধরনের উড়ো বার্তা পাঠিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের নিরাপত্তা নিয়ে যে কোনওরকম আপস করা হবে না এবং জনমানসে শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ যে সর্বদা সজাগ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই দ্রুত গ্রেফতারি তারই প্রমাণ।
