Mithun Chakraborty
Bengal Liberty, ১৬ মে :
বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম জেলা সফরে বেরোনোর আগেই শনিবার সকালে নিউটাউনে মিঠুন চক্রবর্তীর (Mithun Chakraborty) বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে এই বৈঠক ছিল স্পষ্ট বার্তাবাহী। বাংলায় বিজেপির ক্ষমতা দখলের পর মহাগুরু ও মুখ্যমন্ত্রীর এই একান্ত বৈঠক ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার একদিকে শুভেন্দুর মুখে মিঠুনের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল, অন্যদিকে মহাগুরুর মুখে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাজের খোলামেলা সার্টিফিকেট দিতে দেখা যায় (Mithun Chakraborty)।

‘বাংলায় বিজেপির জয়ের অন্যতম কারিগর মিঠুন দা’- শুভেন্দুর বার্তা (Mithun Chakraborty)
শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকে যাওয়ার আগে নিউটাউনে মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ আলোচনা হয়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের লড়াইয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমরা এই রাজ্যের পরিবর্তনের শপথ নিয়েছিলাম। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মিঠুন দা দেখা করতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, আপনাকে আসতে হবে না, আপনার মুখ্যমন্ত্রী আপনার কাছেই যাবে।” তিনি আরও বলেন, গত ৬ বছর ধরে মিঠুন চক্রবর্তী নিঃস্বার্থভাবে বাংলায় বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর প্রচার, সভা, রোড শো এবং জনসংযোগ বিজেপির পক্ষে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর কথায়, “গত তিন মাসে বিজেপির হয়ে সবচেয়ে বেশি সভা, র্যালি, রোড শো করেছেন মিঠুন দা। তাঁকে সাংগঠনিক পদ দিতে চাইলেও তিনি নেননি। মাইক্রো লেভেলে কাজ করেছেন। বাংলায় বিজেপির জয় ও আমার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম কারিগর মিঠুন দা।”

‘এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে না’- শুভেন্দুকে সার্টিফিকেট মহাগুরুর (Mithun Chakraborty)
পাল্টা নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মিঠুন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে প্রশাসনিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। মিঠুনের কথায়, “এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে না। শপথ নেওয়ার পর থেকেই কাজ করে চলেছেন তিনি।” বাংলায় বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর এই সাক্ষাৎ শুধুই সৌজন্যমূলক নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রণকৌশলেরও ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে সাংগঠনিক স্তরে মিঠুন চক্রবর্তীর জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে বিজেপি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
