Bengal Liberty, ১৭ মে :
রাজ্যে শাসনক্ষমতা বদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার পার্ক সার্কাস। নতুন সরকারের প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং (park circus violance)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়, যার পাল্টা হিসেবে বিক্ষোভকারীদের দিক থেকেও ধেয়ে আসে ইটবৃষ্টি। বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামানো হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী

বিধিনিষেধ ও বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ park circus violance
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি আজান ও নামাজ সংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক কড়াকড়িকে তাঁরা ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’ হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার লক্ষ্যে বুলডোজার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তারা ক্ষুব্ধ। ফলে এই জোড়া ইস্যুকে কেন্দ্র করেই এদিন দুপুরে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে বিশাল জমায়েত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের জমায়েতের জেরে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতের নাগালে চলে যায়,পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করে। এই ইটবৃষ্টিতে সিআরপিএফ (CRPF)-এর একটি বাস ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়, বাসের কাচ চুরমার হয়ে যায়।
আরও খবর
উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এলাকায় নামানো হয় কলকাতা পুলিশের র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং কমব্যাট ফোর্স। ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ মূল রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয়। এবং এইমুহূর্তে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশের কড়া পাহারায় যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এবং নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পার্ক সার্কাস চত্বর জুড়ে রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশেষ পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনওরকম আপস করা হবে না আর।
রাজ্যে জমানা বদলের পর প্রশাসনিক সংস্কার এবং ভাবাবেগের এই সংঘাত নতুন সরকারকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। পার্ক সার্কাসের এই বিক্ষোভ কি কেবল স্থানীয় ইস্যু, নাকি এর রেশ ছড়িয়ে পড়বে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও? নজর থাকবে সেদিকেই।


